হঠাত জাগ্রত কে এই কবি মুহিব খান?


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2019-08-21 01:26:07 BdST | Updated: 2019-11-17 22:15:04 BdST

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে পবিত্র কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিলের আয়োজনের পোস্টারে ছেয়ে গেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক। তবে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ বলছে, এই পোস্টার ও অনুষ্ঠানের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। যে অনুষ্ঠানের পোস্টারে মুহিবখানকে 'জাগ্রত কবি' দাবি করা হয়েছে। অনেকেই মজা করে কোন কথার প্রতুত্তরে কেন শব্দটি আসলে বলছেন, 'কেন কেন কেন'। মুহিব খানের একটি গানে 'কেন কেন কেন' শব্দটি এরকম ভাবেই উচ্চারিত হয়েছে। 

কে এই জাগ্রত কবি মুহিব খান? অনেকেরই জানার আগ্রহ জেগেছে তার পরিচয়। জেনে নেয়া যাক সংক্ষিপ্ত পরিচয়। 

পুরো নাম মুহিব্বুর রহমান খান, জন্ম কিশোরগঞ্জ শহরে ১৯৭৯ অক্টোবরে। ষোড়শ শতকে মুসলিম মধ্য এশিয় অঞ্চল থেকে পূর্বসূরিদের বাংলাদেশে আগমন। উপমহাদেশের আলেমে দ্বীন, দার্শনিক, রাজনীতিক, বিএনপি জোট থেকে সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা আতাউর রহমান খানের কনিষ্ঠ পুত্র তিনি।

তিনি তাকমীল ফিল হাদিস ওয়াল উলূমিল ইসলামিয়া, ১৯৯৮ ( বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়াহ বাংলাদেশ )। স্নাতকোত্তর “রাষ্ট্রবিজ্ঞান ” ২০০৪( জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ) এ পড়াশুনা করেছেন। 

২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসলে তার লেখা ও সুর করা গান ' জেগেছে বাংলাদেশ, এখনই সময় তার' গানটি বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ সকল চ্যানেলে প্রচার করে সরকার। গানটি গেয়েছিলেন আয়ুব বাচ্চু, হায়দার হোসেন , আগুন, মমতাজ, শুভ্রদেব, কনচাপা, ফাহমিদা নবী ও শাকিলা জাফর।

এই গানের মাধ্যমেই তিনি মূলত ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসেন। 

তবে তার "কেন কেন ১" গানটি ব্যাপক বিতর্কিত। সেখানে তিনি বলেছেন 

"কেন বাংলাদেশের স্থপতী হবেন
বাঙ্গালী জাতীর পিতা ?
কেন সংখ্যা বাড়িয়ে বলতেই
হবে ত্রিশ লক্ষ বৃথা ?
কেন জাতীয়তা নিয়ে চলে
বিতর্ক বাঙ্গালী-
বাংলাদেশী ?

এদিকে তার গানে বাজনা থাকে বলে অনেক কউমি আলেমও তার সমালোচনা করে থাকেন বলে জানা গেছে। 

পোস্টারের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি শাহরিয়ার কবির বিদ্যুৎ বলেন, ‘আগস্ট এলেই মুক্তিযোদ্ধের বিপক্ষের শক্তিগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে থাকে। ছাত্রলীগ যেহেতু আওয়ামী লীগের অন্যতম এটি ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন, তাই তারা ছাত্রলীগকে বিতর্কিত করতে চায়। তবে আমরা তা হতে দেব না। আমরা তদন্ত করে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী  বলেন, ‘এটা যারা করেছে অতি উৎসাহী হয়ে করেছে। এর সঙ্গে ছাত্রলীগের কোনো সম্পর্ক নেই।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে রাব্বানী বলেন, ‘আমাদের সভাপতির কাছে এক দল কওমি ছাত্র এসেছিলেন। তাঁরা শোক দিবস উপলক্ষে একটা প্রোগ্রাম করতে চায় জানালে সভাপতি তাঁদের প্রোগ্রাম করার রোডম্যাপ চান। কিন্তু তাঁরা সেটা না করে অতি উৎসাহী হয়ে পোস্টার ছাপিয়েছে। আমরা তাদের ডেকেছি। রাতে তাদের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানাব।’

বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে