বাঁশখালীতে শ্রমিক নিহত ও চায়না আগ্রাসনের প্রতিবাদে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের চীন দূতাবাসে স্মারকলিপি প্রদান


ঢাকা | Published: 2021-05-05 16:08:13 BdST | Updated: 2021-06-12 21:21:37 BdST

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এসআলম গ্রুপ এবং চীনের দু'টি কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে নির্মাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিহত সাতজন শ্রমিকের পরিবারদেরকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান, হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং সংখ্যালঘু উইঘুর গণহত্যা বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।

আজ ৫ মে ২০২১ বুধবার দুপুর ১২ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে চীন দূতাবাস অভিমুখে পদযাত্রা করে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। চীন দূতাবাস অভিমুখে পদযাত্রা শাহবাগে আটকে দেয় পুলিশ। পরে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলকে চীন দূতাবাসের দিকে নিয়ে যায় পুলিশ। প্রতিনিধি দলে ছিলেন বিশিষ্ট ভাস্কর শিল্পী রাশা, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আল মামুন ও সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদ। চীনের রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি গ্রহণ করেন গুলশান ডিপ্লোমেটিক জোনের ডিসি আশরাফুল ইসলাম।

এর আগে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আল মামুনের সঞ্চালনায় ঢাবির রাজু ভাস্কর্যে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, "গত ১৭ এপ্রিল চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এসআলম গ্রুপ ও চীনের দুটি প্রতিষ্ঠান সেপকো থ্রি পাওয়ার কনস্ট্রাকশন করপোরেশন এবং এইচটিজি ডেভেলপমেন্ট গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে নির্মাণাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রে যৌক্তিক আন্দোলন করতে যেয়ে সাতজন শ্রমিক নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২ জন শ্রমিক মারাত্মকভাবে আহত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আজও পর্যন্ত সেই নিহত শ্রমিকদের পরিবারগুলোকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং হত্যাকাণ্ডের বিচারের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। উল্টো শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে প্রতিনিয়ত হয়রানি করা হচ্ছে। কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের নিরাপদ পরিবেশ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা সকল দেশী-বিদেশী কোম্পানীর নৈতিক দায়িত্ব। চীনের সংখ্যালঘু উইঘুর সম্প্রদায়ের ওপর ধারাবাহিক নির্যাতন এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে চীনা কোম্পানীর প্রকল্পে শ্রমিক হত্যা-নির্যাতন একই সূত্রে গাঁথা বলে আমরা মনে করি। চীন দূতাবাস আজও পর্যন্ত তাদের দেশের দুই কোম্পানীর স্বেচ্ছাচারী ও আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বা কোন বিবৃতি দেয়নি যা অত্যন্ত দুঃখজনক।"

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো: আল মামুন বলেন, "বিশ্বের সকল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার আদায়ে আন্দোলন ও সংগ্রাম করে যাচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে বসবাসরত সংখ্যালঘু উইঘুরদের ওপর প্রতিনিয়ত নির্যাতন-নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। চীন সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে উইঘুরদের ধর্মীয়, রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সম্প্রতি উইঘুরদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ডোপা টুপি ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। চট্টগ্রামে শ্রমিক অসন্তোষই প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশে আসা বিভিন্ন চীনা কোম্পানীগুলো শ্রমিকদের সাথে কতোটা অমানবিক আচরণ করছে। বিএনপির শাসনামলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকী ১৫ আগষ্টে চীন দূতাবাস কর্তৃক খালেদা জিয়াকে জন্মদিনের উপহার পাঠানোর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছিল যে, চীন বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধকে আজও পর্যন্ত মেনে নিতে পারেনি। একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী চীনের আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এসআলম গ্রুপ এবং চীনের দু'টি কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে নির্মাণাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিহত সাতজন শ্রমিকের পরিবারদেরকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান, হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং সংখ্যালঘু উইঘুর সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। অবিলম্বে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে এসআলম গ্রুপ এবং চায়না কোম্পানীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ আরোও কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা করবে।"