চবির বি ইউনিটে প্রথম আইমান, পড়তে চান আরবি বিভাগে


CU Correspondent | Published: 2022-08-28 10:27:05 BdST | Updated: 2022-12-03 05:26:15 BdST

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের কলা ও মানববিদ্যা অনুষদভুক্ত ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হয়েছেন তানযিমুল উম্মাহ আলিম মাদরাসার শিক্ষার্থী আইমান বিন কামাল। এছাড়া ‘ডি’ ইউনিটেও অষ্টম স্থান অর্জন করেছেন তিনি।

দাখিল (মাধ্যমিক সমমান) ও আলিম (উচ্চ মাধ্যমিক সমমান) পরীক্ষায় জিপিএ ফাইভ পাওয়া আইমান চবির ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ১২০ নম্বরের মধ্যে পেয়েছেন ১০২ এবং মূল পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে পেয়েছেন ৮২। তিনি চবির জীববিজ্ঞান অনুষদ কেন্দ্রের ৫১৬ নম্বর কক্ষে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছিলেন।

ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করে আইমান বলেন, ‘সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ তা'য়ালার। তিনি আমাকে প্রশংসিত করেছেন। আমি খুব খুশি হয়েছি প্রথম হয়ে। পাশাপাশি ‘ডি’ ইউনিটেও ৮ম হয়েছি। আনন্দটা দ্বিগুণ বেড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে আমার আব্বু-আম্মু খুব খুশি হয়েছেন।’

আইমানের বাড়ি ফেনীর ফুলগাজীতে। তবে, তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন সুদূর সৌদি আরবের মক্কায়। তার পুরো পরিবারই এক সময় মক্কায় থাকতেন। বাবা কামাল উদ্দিন সেখানে ব্যবসা করতেন আর মা মায়মুনা খাতুন ছিলেন মক্কায় অবস্থিত ‘তুমুহ বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল’ এর একজন শিক্ষয়িত্রী। বাবা-মায়ের প্রবাসজীবনের সূত্রে ২০০২ সালে তিনি সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তবে, ১২ বছর বয়সে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর ২০১৪ সালে তাকে স্বপরিবারে দেশে চলে আসতে হয়।

আইমান বলেন, ‘আমি সুযোগ পেলে আবারো সৌদি আরবে যেতে চাই। কেননা, বাংলাদেশ যেমন আমার মাতৃভূমি, তেমনি ওটা আমার জন্মভূমি। ওখানেই আমি ও আমার বড় ভাই আম্মার বিন কামাল জন্মগ্রহণ করেছি। শৈশবের অনেক স্মৃতি ও মায়া জড়িয়ে আছে সেখানে। ওখানে আমার অনেক বন্ধু-বান্ধবও রয়েছে।’

২০১৪ সালে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে আইমান মাদরাসা শিক্ষায় পড়ালেখা করতে থাকেন। সেই সূত্রে রাজধানী ঢাকার অদূরে সাভারের আশুলিয়ায় অবস্থিত তানজিমুল উম্মাহ আলিম মাদরাসায় মানবিক শাখা থেকে ২০১৯ সালে দাখিল (মাধ্যমিক সমমান) এবং ২০২২ সালে আলিম (উচ্চ মাধ্যমিক সমমান) পরীক্ষায় জিপিএ ফাইভ পেয়ে উত্তীর্ণ হোন।

চবি ছাড়া তিনি শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরই ভর্তি পরীক্ষার ফরম তুলেছিলেন। তবে, সেখানে দূর্ভাগ্যবশত বেশি একটা ভালো করতে পারেননি তিনি। তারপর চবিতে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে পরপর ‘বি’ ও ‘ডি’ দুই ইউনিটেই ক্রমান্বয়ে প্রথম ও অষ্টম স্থান অর্জন করে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দেন।

চবিতে ভর্তি হওয়ার বিষয়ে আইমান বলেন, ‘‘যদি ‘বি’ ইউনিটে ভর্তি হই, তাহলে আমি আরবি বিভাগেই ভর্তি হতে চাই। আর যদি ‘ডি’ ইউনিটে ভর্তি হই, তাহলে অর্থনীতি নিয়ে পড়তে চাই। তবে, সবার সাথে পরামর্শ করে তারপর সিদ্ধান্ত নিব যে, কী করব। কেননা, যেহেতু আমার জন্ম ও শৈশব সৌদি আরবে, সেহেতু আমার আরবিতে ভালো করার একটা সম্ভাবনা আছে। আর অর্থনীতি হলো আমার পছন্দের একটা সাবজেক্ট। যার কারণে, খুব বুঝেশুনে তারপর সিদ্ধান্ত নিব যে, কোন বিষয় নিয়ে পড়ব বা কোন বিষয় নিয়ে পড়লে আমার জন্য ভালো হবে।’’

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পর্কে আইমান বলেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের পড়ালেখায় ফোকাস করা দরকার। বেসিক পড়ালেখায় মনোযোগ দেয়া উচিত। যাতে করে উচ্চমাধ্যমিক শেষ হলে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরুর পূর্বেই বেসিকটা আয়ত্তে থাকে। যেটা আমি আমার ক্ষেত্রে কাজে লাগিয়েছি। আগে থেকেই আমি ইংরেজি, বাংলা এবং সাধারণ জ্ঞান শিখতাম একটু একটু করে। ফলে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে এটা অনেক কাজে দিয়েছে।’’

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় কলা ও মানববিদ্যা অনুষদভুক্ত ‘বি’ ইউনিটে ২৬ হাজার ৬০৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১১ হাজার ৫৩৫ জন শিক্ষার্থী। যা পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ৪৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এবং ফেল করেছেন ১৫ হাজার ৬৯ জন পরীক্ষার্থী। যা পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ৫৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

এর আগে গত ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয় চবির ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা। এতে ৩৫ হাজার ৭৭৯ ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নেন ২৬ হাজার ৬০৭ জন। যা মোট পরীক্ষার্থীর ৭৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ। অনুপস্থিত ছিলেন ৯ হাজার ১৭২ জন। যা শতকরা হিসেবে ২৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ। ২৬ আগস্ট দিবাগত রাত ৩টার দিকে চবির কলা ও মানববিদ্যা অনুষদভুক্ত ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। এতে প্রথম স্থান অর্জন করেন আইমান বিন কামাল।