সুন্দরীর মুকুট তালাকপ্রাপ্তা বলে মঞ্চেই কেড়ে নিল আগের সুন্দরী


ঢাকা | Published: 2021-04-07 03:44:29 BdST | Updated: 2021-04-11 12:32:54 BdST

‘মিসেস শ্রীলঙ্কান’ খেতাব জয়ের পর সুন্দরী পুষ্পিকা ডি সিলভার মাথায় পরিয়ে দেওয়া হয় মুকুট। কিন্তু মুহূর্তেই তাঁর নামে ওঠে অভিযোগ। মঞ্চেই তাঁর মুকুট খুলে নিয়ে পরিয়ে দেওয়া হয় প্রথম রানার আপকে। তবে এখন আবার মুকুট ফিরে গেছে যোগ্য ব্যক্তির কাছেই। মুকুট ফিরে পেলেও মানহানির জন্য আইনের আশ্রয় নেওয়ার কথা জানান পুষ্পিকা।

গত রোববার শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে জাতীয় টিভি চ্যানেলে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ২০২১ সালের সুন্দরী হিসেবে মিসেস শ্রীলঙ্কান খেতাব জিতে নেন পুষ্পিকা। তাঁর মাথায় মুকুট পরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু পরক্ষণেই ২০১৯ সালের বিজয়ী কারোলিন জুরি অভিযোগ করেন, পুষ্পিকার বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে, তাই তিনি এ খেতাবের অধিকারী হতে পারবেন না। শুধু অভিযোগেই ক্ষান্ত হননি কারোলিন। তিনি পুষ্পিকার মাথা থেকে মুকুট ছিনিয়ে নেন। আজ মঙ্গলবার বিবিসির এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়।

কারোলিন মঞ্চে বলেন, ‘এই সুন্দরী প্রতিযোগিতার একটি নিয়ম হলো নারীদের অবশ্যই বিবাহিত হতে হবে এবং যাঁদের স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়েছে, তাঁরা এতে অংশ নিতে পারবেন না। তাই আমি এই মুকুট দ্বিতীয় স্থানধারীকে দিতে যাচ্ছি।’

অনুষ্ঠানের এক ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, অশ্রুসিক্ত অবস্থায় মঞ্চ ছেড়ে যান পুষ্পিকা। আর মুকুট পরিয়ে দেওয়া হয় প্রথম রানার আপকে।

পরে অবশ্য এ ঘটনার জন্য আয়োজকেরা পুষ্পিকার কাছে ক্ষমা চান। কারণ, তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন, পুষ্পিকার বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি, তবে তাঁরা আলাদা থাকেন।

পুষ্পিকা তাঁর ফেসবুক পেজে এক পোস্টে লিখেছেন, এই ঘটনার পর তিনি প্রচণ্ড মাথাব্যথায় ভুগছেন। এ জন্য তাঁকে হাসপাতালের যেতে হচ্ছে। তাঁকে বিনা কারণে যেভাবে অপদস্থ করা হয়েছে, এ জন্য তিনি আইনের দ্বারস্থ হবেন বলেও জানান।

পুষ্পিকা পোস্টে লেখেন ‘আমার এখনো বিচ্ছেদ হয়নি। যিনি আরেক নারীর মুকুট ছিনিয়ে নিতে পারেন, তিনি কখনো সত্যিকারের সুন্দর নারী হতে পারেন না।’

মিসেস শ্রীলঙ্কান ওয়ার্ল্ডের জাতীয় পরিচালক চান্দিমাল জয়সিংহে বিবিসিকে বলেন, আজ মঙ্গলবারই মুকুটটি পুষ্পিকার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। আমরা খুবই হতাশ। কারোলিন মঞ্চে যা করলেন, তা খুবই মানহানিকর। আয়োজক সংস্থা এরই মধ্যে বিষয়টির তদন্ত শুরু করেছে।

পুলিশ এ বিষয়ে কারোলিন ও চান্দিমালকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।

দেশটিতে এটি বড় ধরনের প্রতিযোগিতা বলে মূল্যায়ন করা হয়। এবারের এ আয়োজন অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন।