বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন


Dhaka | Published: 2021-08-15 10:35:12 BdST | Updated: 2021-12-04 07:54:22 BdST

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আজ ধানমণ্ডি বত্রিশে সকাল ১০ টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের সময় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ভাস্কর শিল্পী রাশা, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো: আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মাকসুদ হাওলাদার, শাহীন মাতবর, রোমান হোসাইন, ফরহাদ হোসেন, তসলিম খান, নুরুজ্জামান তুহিন, আনসার আলী, মনিরুল ইসলাম, এম আমিনুল শিকদার, আইন সম্পাদক এ্যাড. এইউজেড প্রিন্স, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মিলন হোসেনসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের পর বিশিষ্ট ভাস্কর শিল্পী রাশা বলেন, "বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ এবং মুক্তিযুদ্ধ একই সূত্রে গাঁথা। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ তাঁর সুযোগ্য কন্যার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে। শোককে শক্তিতে পরিণত করে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে তুলতে হবে। স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি আবারো মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। এদের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার থাকতে হবে।"

সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদ বলেন, "বঙ্গবন্ধু আমাদের অনুপ্রেরণা। বঙ্গবন্ধুর আহবানে আমাদের পিতারা মুক্তিযুদ্ধ করে স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে এনেছিল। এই লাল সবুজের পতাকার সম্মান আমাদেরকেই রক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশের অপর নাম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে একাত্তরে পরাজিত পাকিস্তানি অপশক্তির দোসররা বঙ্গবন্ধু পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দোসররা এখনো রাষ্ট্র বিরোধী ষড়যন্ত্রে চলমান রেখেছে। এদেরকে রুখে দিতে রাজপথে সর্বদা সোচ্চার থাকবে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।"

সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো: আল মামুন বলেন, "সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং সতত প্রেরণাদায়ী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ ১৫ আগস্টের কালরাত্রিতে নিহত সকল শহীদদের স্মরণ করছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও তাঁর আদর্শ ও চেতনাকে হত্যা করা সম্ভব হয়নি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে তরুণ প্রজন্মরা এগিয়ে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জড়িত ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত বিদেশে পলাতক আসামীদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসি কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল কুশীলবদের খুঁজে বের করার জন্য একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে। খুনী জিয়া-মোশতাকের মরণোত্তর বিচার দাবি করছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। সত্য ইতিহাস কখনোও গোপন থাকে না। ধীরে ধীরে স্বৈরশাসক জিয়ার মুখোশ উন্মোচিত হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দীর্ঘ ২১ বছর মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী অপশক্তিরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাহাত্তরের সংবিধানকে ক্ষতবিক্ষত করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু কন্যা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুদ্ধার করেছেন। এগিয়ে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ। একাত্তরের পরাজিত পাকিস্তানি অপশক্তি দোসররা এখনও সক্রিয়। পাকিস্তান আইএসআইয়ের এজেন্ট ছিল জিয়াউর রহমান। একাত্তরে পরাজিত হওয়ার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল পাকিস্তানের দোসররা। এরা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির বিরুদ্ধে এখনো নানাবিধ ষড়যন্ত্র চলমান রেখেছে। আমাদেরকে সবসময় সোচ্চার থাকতে হবে।

শোককে শক্তিতে পরিণত করে এদের রাষ্ট্র বিরোধী সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে। রাজাকার এবং এদের বংশধরদের তালিকা প্রকাশসহ নাগরিকত্ব বাতিল করতে হবে। স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি বিএনপি-জামাতের সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিবে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। বাংলাদেশ সৃষ্টির জনক বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের অবদান বাঙ্গালি জাতি আজীবন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।"