বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর মৃত্যু, এক শিক্ষার্থী রিমান্ডে


ঢাকা | Published: 2021-02-09 16:38:27 BdST | Updated: 2021-04-11 13:48:26 BdST

রাজধানীর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় সাফায়েত জামিল নামের এক শিক্ষার্থীকে এক দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত এই আদেশ দেন।

আসামির আইনজীবী এম এ বি এম খায়রুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আইনজীবী ও আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনার মামলায় গত ৪ ফেব্রুয়ারি সাফায়েত জামিল আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। সেদিন লিখিতভাবে বলেন, তিনি এই মামলার আসামি হতে চান। তাঁকে যেন এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সেদিন আদালত তাঁর আবেদন মঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশ এই মামলার ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য সাফায়েত জামিলকে সাত দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে। আজ ওই রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি হয়। উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত সাফায়েতের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সাফায়াত জামিলের আইনজীবী এম এ বি এম খায়রুল ইসলাম বলেন, গত ৩১ জানুয়ারি রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা হয়। সেই মামলায় চারজন আসামির নাম উল্লেখ করা হয়। ৫ নম্বর আসামির তালিকায় একজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। সাফায়েত জামিলই মামলার অজ্ঞাতনামা সেই আসামি। তিনি ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবে জড়িত নন। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়। অবশ্য সাফায়েত আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করেন। আদালত তাঁর আবেদন নামঞ্জুর করেন।

আদালত সূত্র বলছে, এই মামলায় মর্তুজা রায়হান চৌধুরী নামের এক আসামি ৫ ফেব্রুয়ারি আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। তিনি এখন কারাগারে। এ ছাড়া ফারজানা জামান নেহা নামের এক আসামির ৫ ফেব্রুয়ারি পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। তিনি এখন পুলিশি হেফাজতে। আর এই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন নুহাত আলম তাফসীর নামের আরেক আসামি। আরাফাত নামের এক আসামি মারা গেছেন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে গত ৩১ জানুয়ারি মোহাম্মদপুর থানায় মামলা হয়।

মামলার এজাহারে ওই ছাত্রীর বাবা দাবি করেন, গত ২৮ জানুয়ারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী (বাদীর মেয়ে) মিরপুর থেকে লালমাটিয়ায় তাঁর বন্ধু আরাফাতের কাছে আসেন। এরপর আসামি মর্তুজা রায়হান চৌধুরী ও আরাফাত ওই শিক্ষার্থীকে নিয়ে উত্তরায় একটি রেস্টুরেন্টে যান। আগে থেকে ওই রেস্টুরেন্টে অবস্থান করা ওই শিক্ষার্থীর বান্ধবী নেহা, অজ্ঞাত একজন ব্যক্তিসহ অন্য আসামিরা ওই শিক্ষার্থীকে অধিক মাত্রায় মদ পান করান। তখন ওই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে সেখান থেকে মোহাম্মদপুরে নুহাত আলম তাফসীরের বাসায় আসেন। সেখানে আসামি মর্তুজা রায়হান চৌধুরী ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করেন। পরে আরও অসুস্থ হয়ে পড়লে ওই শিক্ষার্থীকে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩১ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়। অবশ্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, অজ্ঞাত বিষক্রিয়ার কারণে ওই ছাত্রীর মৃত্যু হয়। আর ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক বলছেন, ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ওই ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।