জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ৬ দফা দাবি


ঢাকা | Published: 2021-02-21 19:29:52 BdST | Updated: 2021-02-27 04:35:33 BdST

উপাচার্যের বাস ভবনের সামনে অবস্থান এবং হলের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের পর আজ রোববার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ছয় দফা দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো পরিবহন চত্ত্বরে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত এই দাবিগুলো পাঠ করেন সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী সামিয়া ইসলাম।

তাদের দাবিগুলো হচ্ছে:

১। সুষ্ঠুভাবে ও দ্রুত এই পরিকল্পিত হামলার ‍বিচার করতে হবে। রেকর্ড দেখে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মামলা করতে হবে।

২। গেরুয়াতে অবস্থিত শিক্ষার্থীদের পুলিশি হেফাজতে ক্যাম্পাসে আনতে হবে।

৩। নিরাপত্তার স্বার্থে হল খুলে দিতে হবে।

৪। শুধু আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যয় নয়, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের সব ক্ষতিপূরণ কর্তৃপক্ষকে দিতে হবে।

৫। ক্যাম্পাস ও আশেপাশের সব শিক্ষার্থীর দায়িত্ব কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে।

৬। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে তার দায়ভার ক্যাম্পাস কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। এর দায় শিক্ষার্থীদের নয়।

গত শুক্রবার ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে হল খুলে দেওয়ার দাবিতে গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।

গতকাল সঙ্গে আলাপকালে জাবির ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান শিক্ষার্থীদের বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ওপর যারা হামলা চালিয়েছে তাদের চিহ্নিত করে রাষ্ট্রীয় আইনে বিচার হবে, সেই দাবির সঙ্গে সহমত পোষণ করছি। তারা আরেকটি দাবি জানিয়েছে, ওই রাস্তাটি আমাদের জন্য অনিরাপদ এবং আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে অনিরাপদ করেছে। আমরা যখন শিক্ষার্থী ছিলাম তখনও আমরা এই দাবি জানিয়েছি। এই দাবির সঙ্গেও আমরা সহমত প্রকাশ করছি।’

হল খোলার দাবির বিষয়ে প্রক্টর বলেন, ‘বর্তমান মহামারি এবং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। এটা একান্তই সরকারি সিদ্ধান্ত। সরকারি সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় আলাদা সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। সরকার যে মুহূর্তে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে, সঙ্গে সঙ্গেই আমরা হলগুলোও খুলে দেব।’

তাদের দাবি মেনে হল খুলে দেওয়া না হলে নিজেরাই হলের তালা ভাঙতে শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

আবাসিক হলগুলোর তালা ভাঙার পর আবার নতুন করে ছাত্রী হলগুলোতে তালা লাগিয়ে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে তালা ভেঙে ছাত্র হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের অবস্থান করতে দেখা গেছে।