চবির ভর্তি পরীক্ষায় বাড়ছে আবেদনের যোগ্যতা


চট্টগ্রাম | Published: 2021-02-22 14:14:23 BdST | Updated: 2021-02-27 21:14:01 BdST

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় আবেদনের জন্য যোগ্যতা বাড়ানোর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিটি ইউনিটেই আবেদনের ন্যূনতম জিপিএ অন্তত শূন্য দশমিক ৫০ বাড়ানো হবে। এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল ‘অনেক ভালো’ হওয়ায় ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে আবেদনের যোগ্যতায় এই পরিবর্তন আনা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

আগামী বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিতব্য ডিনস কমিটির সভায় এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটিতে থাকা একাধিক ব্যক্তি বিষয়টি চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে নিশ্চিত করেছেন।

সূত্রে জানা যায়, প্রতিটি অনুষদে বিভাগীয় সভাপতিদের নিয়ে ডিনরা ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে সম্প্রতি সভা করেছেন। সেখানে ইউনিটভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষায় আবেদনের যোগ্যতা প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে— যা ডিনস কমিটির সভায় চূড়ান্ত হবে।

প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি আবেদনের নির্ধারিত যোগ্যতা হল— ‘এ’ ও ‘সি’ ইউনিটে আবেদনের যোগ্যতা এসএসসি ও এইচএসসি মিলিয়ে জিপিএ- ৮.০০।

‘বি’ ও ‘বি-১’ ইউনিটের ক্ষেত্রে যারা বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিভাগ থেকে আবেদন করবে তাদের জন্য আবেদনের যোগ্যতা এসএসসি ও এইচএসসি মিলিয়ে জিপিএ-৮.০০। আর যারা মানবিক বিভাগ থেকে আবেদন করবে তাদের জন্য জিপিএ- ৭.৫০ থাকতে হবে।

অন্যদিকে ‘ডি’ ইউনিটের ক্ষেত্রে জিপিএ ৭.৫০ থাকতে হবে। ‘ডি১’ উপ-ইউনিটের যোগ্যতা জানা যায়নি।

২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ‘এ’ ইউনিটে আবেদনের যোগ্যতা ছিল জিপিএ-৭.৫। ‘বি’ ও ‘বি-১’ উপ ইউনিটের যোগ্যতা ছিল বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য জিপিএ-৭ ও মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য জিপিএ-৬.৫। ‘সি’ ইউনিটে আবেদনের যোগ্যতা ছিল জিপিএ-৭.৫। ‘ডি’ ইউনিটের আবেদনের যোগ্যতা ছিল জিপিএ-৭। ‘ডি১’ উপ-ইউনিটের আবেদনের যোগ্যতা ছিল জিপিএ-৬।

সূত্রে আরও জানা যায়, ভর্তি পরীক্ষা এবারও ছয়টি ইউনিটে ক্যাম্পাসেই নেওয়া হবে। ক্যাম্পাসে ২২ হাজার শিক্ষার্থী বসার মতো আসন রয়েছে। এক্ষেত্রে আবেদনকারী যদি ১৫ হাজারের মধ্যে হয়, তাহলে পরীক্ষা এক শিফটে অনুষ্ঠিত হবে। আর ১৫ হাজারের বেশি হলে দুই শিফটে নেওয়া হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ডিন চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল অনেক ভালো হওয়ায় ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে এবারের ভর্তি পরীক্ষায় আবেদনের যোগ্যতা কিছুটা বাড়ানো হবে। সব অনুষদের ডিনরা বিভাগীয় সভাপতিদের সাথে সভা করে প্রাথমিকভাবে আবেদনের যোগ্যতা নির্ধারণ করেছেন। ডিনস কমিটির সভায় এটা চূড়ান্ত হবে।

এর আগে গত ৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ডিনস কমিটির এক সভায় ভর্তি পরীক্ষা আগামী ঈদুল ফিতরের পরে নেওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে ভর্তি পরীক্ষার আবেদনের যোগ্যতা ও জিপিএ থেকে নম্বর থাকবে কিনা সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি সে সভায়। আগামী ১৩ বা ১৪ মে ঈদুল ফিতর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন এসএম সালামত উল্যা ভূঁইয়া চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমরা ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের যাবতীয় প্রস্তুতি শুরু করেছি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা ঈদের পরে নেওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এখনও তারিখ চূড়ান্ত হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষা আমরা ক্যাম্পাসের ভেতরেই নেওয়ার চেষ্টা করবো। তবে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার যোগ্যতা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।’

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৮টি বিভাগ ও ৬টি ইনস্টিটিউট রয়েছে। গত বছর ৪টি ইউনিট ও ২টি উপ-ইউনিটের ভর্তি কার্যক্রম হয়েছে। ৪৮টি বিভাগ ও ৬টি ইনস্টিটিউটে ৪ হাজার ৯২৬টি আসনে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হন। প্রতি আসনে আবেদন করেছিলেন ৫২ জন শিক্ষার্থী। ভর্তি পরীক্ষা দুই শিফটে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই নেওয়া হয়েছে।