বাংলোতে থেকেও নোবিপ্রবি ভিসির ৬০ হাজার টাকায় বাড়িভাড়া


নিজস্ব প্রতিবেদক | Published: 2021-07-26 19:03:55 BdST | Updated: 2021-09-17 13:28:54 BdST

বরাদ্দ করা বাংলোতে থেকেও প্রতিমাসে ৬০ হাজার টাকা বাড়িভাড়া বাবদ ভাতা নিয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্য মো. দিদার-উল আলম।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, “ভিসির জন্য বাংলো রয়েছে তারপরও বাড়িভাড়া ভাতা নেওয়া শুধু অনিয়ম নয়, নৈতিকতাবিরোধী কাজ।”

এ পর্যন্ত নেওয়া বাড়িভাড়া বাবদ পুরো অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি)। গত ১৮ জুলাই উপাচার্যকে চিঠি দিয়ে টাকা পরিশোধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকার গেস্ট হাউসে দীর্ঘদিন ব্যবহার করা পাজেরো জিপ গাড়িটি ক্যাম্পাসে নিয়ে যেতে বলা হয়েছে উপাচার্যকে।

ইউজিসির সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. ফেরদৌস জামান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, কমিশনের বাজেট নিরীক্ষা দল গত ১৫-১৬ নভেম্বর নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনে যায়। দলটি ২০২০-২১ অর্থবছরের সংশোধিত এবং ২০২০-২১ অর্থবছরের মূল বাজেট পরীক্ষার সময় উপাচার্যের বাংলো থাকা সত্ত্বেও বাড়িভাড়া ভাতা দেওয়া হচ্ছে বলে দেখা যায়, যা আর্থিক শৃঙ্খলা পরিপন্থি।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ২০১২ খ্রিষ্টাব্দে কেনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাজেরো গাড়ি অতীতের ধারাবাহিকতায় ঢাকায় গেস্ট হাউসে ব্যবহূত হচ্ছে, যা বিধিবহির্ভূত। গাড়িটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্থানান্তর করা উচিত।

শুধু বাড়িভাড়া ভাতা নয়, উপাচার্যের জন্য কেনা ২০১২ সালে কেনা পাজেরো মডেলের গাড়িটির ব্যবহার নিয়েও রয়েছে অনেকের আপত্তি। গাড়িটি রাখা হয় ঢাকায় অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথি ভবনে। অভিযোগ রয়েছে, গাড়িটি ঢাকায় উপাচার্যের পরিবারের সদস্যরা ব্যবহার করেন। বিশেষ করে সাবেক উপাচার্যের স্ত্রী গাড়িটি ব্যবহার করতেন। যদিও ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গাড়িটিকে ফিরিয়ে নিতে নির্দেশনা দিয়েছিল, তবে এখনো গাড়িটি পরে আছে ঢাকায়।

তবে উপাচার্যের দাবি, বাড়িভাড়া ভাতা ও গাড়ি ব্যবহারের এই প্রথা আগে থেকেই চলে আসছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ফারুক হোসেন বলেন, গত ১১ জুন এক সভায় উপাচার্যের ভাতাদি সম্পর্কিত আলোচনা হয়েছে।

এ অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য মো. দিদার-উল আলম বলেন, ঢাকায় ভাড়া নেওয়া বাসাটি তিনি ছেড়ে দিচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলোও তিনি আর ব্যবহার করবেন না। একসঙ্গে দুটো বাড়ির ভাড়া দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি এখন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথি ভবনে থাকবেন।

গাড়ির বিষয়ে উপাচার্য বলেন, আগের উপাচার্যরা দুটি গাড়ি অনুমোদন করিয়ে নিয়েছেন, ব্যবহারও করতেন। কিন্তু তখন কোনো কথা ওঠেনি। এখন এসব কথা উঠছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু লোক উপাচার্যের বিরুদ্ধাচারণ করছে বলেও দাবি করেন তিনি।