‘চাঁদা নয়, ঈদ সালামি চেয়েছি’


RU Correspondent | Published: 2022-08-09 18:16:45 BdST | Updated: 2022-10-01 01:43:17 BdST

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ হবিবুর রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি মোমিনের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে নির্মাণাধীন ২০তলা অ্যাকাডেমিক ভবনের ঠিকাদারের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার (৬ আগস্ট) তিনি ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। এর আগেও ৩৪ হাজার টাকা চাঁদা নেন বলে অভিযোগ করেছেন ঠিকাদার। তবে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার দাবি, তিনি চাঁদা নয়, ঈদ সালামি চেয়েছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দফতর সূত্র জানায়, ২০১৭ রাবির ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ৩৬৩ কোটি টাকার প্রকল্প পাস হয়। প্রকল্পের আওতায় দেশরত্ন শেখ হাসিনা হল, এএইচএম কামারুজ্জামান হল, ১০তলা ভবনবিশিষ্ট শিক্ষক কোয়ার্টার, ২০তলা অ্যাকাডেমিক ভবন, ড্রেন নির্মাণসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। পরে বাজেট সংশোধিত হয়ে ২০১৯ সালে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে নির্মাণের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মজিদ সন্স ১০তলা বিশিষ্ট শহীদ কামারুজ্জামান আবাসিক হল ও ২০তলা বিশিষ্ট অ্যাকাডেমিক ভবনের কাজ পায়।

ক্যাম্পাস সূত্র জানায়, গত ৬ আগস্ট ২০তলা অ্যাকাডেমিক ভবনের কাজ চলাকালে ছাত্রলীগ নেতা মোমিন সেখানে গিয়ে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। এসময় তিনি হল চালাতে তার খরচ হয় বলে জানান। এর আগে গত জুনের শেষ সপ্তাহে তিনি ৩৪ হাজার টাকা চাঁদা নেন। ফের চাঁদা চাওয়া বিষয়টি প্রকল্প পরিচালককে জানায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সমাধান করে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দুটি ভবনের নির্মাণ কাজের দেখাশোনা করেন প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম। তবে তার অধীনে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে রয়েছেন প্রকৌশলী আরফান। তিনি ২০তলা অ্যাকাডেমিক ভবনের নির্মাণ কাজ দেখভাল করেন।

ছাত্রলীগ নেতা চাঁদা চাওয়ার বিষয়ে প্রকৌশলী আরফান ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু বলবো না। আমার বস জহিরুল বিষয়টি দেখাশোনা করছেন। যা হয়েছে, সব তাকে জানিয়েছি। আপনারা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

জানতে চাইলে প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম সহকারী ইঞ্জিনিয়ারের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ছাত্রলীগের ওই নেতা গত জুন মাসের শেষ দিকে একবার ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা চাঁদা নিয়ে গেছে। ফের গত শনিবার ওই ছাত্রলীগ নেতা সাইডে এসে ফের ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ সময় তিনি হলে ছাত্র চালাতে খরচ লাগে বলে জানান।

জহিরুল ইসলাম আরও বলেন, চাঁদা চাওয়ার বিষয়টি আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানিয়েছি। সোমবার প্রকল্প পরিচালক আমাদের জানিয়েছেন কাজ করতে, সমস্যা হবে না।

তবে চাঁদা চাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ছাত্রলীগ নেতা মোমিন। তিনি বলেন, আমি চাঁদা দাবি করিনি। আমি ঈদ উপলক্ষে সালামি চেয়েছিলাম। তারা বলেছেন ঈদের পরে যোগাযোগ করতে, তাই শনিবার গিয়েছিলাম। এ সময় গত জুনে সাড়ে ৩৪ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়ার বিষয়টিও অস্বীকার করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, বিষয়টি আমি অবগত নই। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তাহলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দফতরের পরিচালক প্রকৌশলী খন্দকার শাহরিয়ার আলম বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে চাঁদা চাওয়ার বিষয়টি জানানো হয়। পরবর্তীতে আমি বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানাই। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাকে বলা হয়েছে প্রক্টর দফতরের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক বলেন, এ সম্পর্কিত কোনও সমঝোতা প্রক্টর দফতর থেকে করা হয়নি।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক শীর্ষ ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, চাঁদা চাওয়া ও দেওয়ার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সবাই জানেন।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, চাঁদা চাওয়ার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না, মাত্রই শুনলাম। এগুলো হয়তো প্রক্টর দফতর দেখছে। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে খোঁজ নেবো।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন