রিভা-রাজিয়ার নির্যাতন-চাঁদাবাজি বন্ধে ছাত্রলীগের একাংশের ১১ দফা দাবি


Desk report | Published: 2022-09-25 12:40:00 BdST | Updated: 2022-12-03 05:39:03 BdST

ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা ও সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানার নির্যাতন, চাঁদাবাজি, সিট বাণিজ্য বন্ধসহ ১১ দফা দাবি জানিয়েছে ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের একাংশ।

রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৩টায় ইডেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সুপ্রিয়া ভট্টাচার্যের কাছে এ লিখিতভাবে এসব দাবি জানান তারা।

 

এতে ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির ১৬ জন সহ-সভাপতি, তিনজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও একজন সাংগঠনিক সম্পাদকসহ প্রায় ১০০ জন সাধারণ শিক্ষার্থী সই করেন।

ছাত্রলীগের একাংশের ১১ দাবি
>> সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে সহ-সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌসীর ওপর অতর্কিত হামলার বিচার করতে হবে।

>> ছাত্রীদের আগে ও পরে অকথ্য গালিগালাজের সুষ্ঠু বিচার।

>> সাধারণ শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক অশ্লীল প্রস্তাব দেওয়ার ঘটনা তদন্ত করতে হবে।

>> গণহারে প্রায় শতাধিক কক্ষ দখলের তদন্ত করতে হবে।

>> অধ্যক্ষকে কটাক্ষ করে কথা বলার জবাব দিতে হবে।

>> ছাত্রী হলের ক্যান্টিনে একচেটিয়া চাঁদাবাজি ও একচেটিয়া রাজনীতি বন্ধ চাই। এ বিষয়ে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ হতে হবে।

>> ক্যাম্পাসের কোনো সিসিটিভি ফুটেজ লুকানো যাবে না। সম্পূর্ণ ভিডিও ফুটেজ তদন্ত কমিটিকে দিতে হবে।

>> অবৈধভাবে যে ওয়াইফাই সংযোগ প্রবেশ করানো হয়েছে, তা অবশ্যই প্রশাসনের মাধ্যমে বের করে দিতে হবে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যে পরিমাণে অর্থ নিয়েছে, তা সম্পূর্ণ ফেরত দিতে হবে। ইডেন কলেজের ৪২ জন নেত্রীর সামনে এবং প্রশাসনও উপস্থিত থাকবে।

>> জান্নাতুল ফেরদৌসীর যে অশ্লীল ছবি তোলা হয়েছে, তা প্রশাসনের সামনে মুছতে হবে।

>> বঙ্গমাতা হলের ১১ তলায় যে রুম দখল আছে, তা উদ্ধার করতে হবে।

>> সহ-সভাপতি মিম ইসলাম যে কি না সভাপতির অনুসারী এবং সহ-সভাপতি রোকসানা মেয়েদের সঙ্গে যে অত্যাচার করেছে তার বিচার করতে হবে।

জানতে চাইলে ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সোনালী আক্তার বলেন, ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দুর্নীতি, চাঁদাবাজিসহ স্বেচ্ছাচারিতা, নির্যাতন বন্ধে আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছি। ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা না আসা পর্যন্ত আমরা অবস্থান নিয়েছে।

অভিযোগ বিষয়ে জানতে ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা ও সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তারা রিসিভ করেননি।

ইডেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সুপ্রিয়া ভট্টাচার্য ও উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ফেরদৌসী বেগমের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এর আগে গণমাধ্যমে কথা বলায় নিজ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল রাত থেকেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে ইডেন কলেজে।