ডাকসু থেকে ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে আসতে চান যারা


স্টাফ করেসপনডেন্ট | Published: 2022-11-26 12:24:17 BdST | Updated: 2023-02-03 19:01:34 BdST

২০১৯ সালের ১১ই মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসুর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২৫ টি পদের মধ্যে ২৩ টি পদেই বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সমর্থিত এবং সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদ মনোনীত প্রার্থীগণ বিজয়ী হন। এদের মধ্য থেকে আগামী ৮ ও ৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৩০তম কাউন্সিলে শীর্ষ পদে প্রার্থী হচ্ছেন ৯ জন। যারা সকলেই ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষার্থী বান্ধব কর্মকাণ্ডের জন্য সুপরিচিত।

সাদ্দাম হোসেনঃ উত্তরবঙ্গ থেকে সবচেয়ে আলোচিত ও শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় ছাত্রনেতা সাদ্দাম হোসেন। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী বান্ধব সকল কাজে তার পদচারণা ছিল সবার আগে। যার ফলে ঢাবি শিক্ষার্থীদের সবার মুখে মুখে সুবক্তা সাদ্দামের নাম। এজিএস পদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এই সাধারণ সম্পাদক ডাকসুর ইতিহাসের সর্বোচ্চ ভোট (১৫,৩০১) পেয়ে নির্বাচিত হন। বক্তব্যের জন্য তিনি তৃণমূল ছাত্রলীগেও বেশ প্রশংসিত ও সুপরিচিত।

সাদ বিন কাদের চৌধুরীঃ করোনা মহামারিতে যখন এলামেলো সমগ্র বিশ্ব, মুমূর্ষু রোগীরা যখন অক্সিজেন পাচ্ছিলেন না, তখনই বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবা চালু করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের এই নেতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চালু হওয়া এ সেবা ছড়িয়ে যায় ঢাকার বাইরে চার বিভাগীয় শহর ও নয় জেলায়। করোনা সংক্রমণ কমলেও তাদের কাছ থেকে এখনো সেবা নিচ্ছে করোনা রোগীসহ অন্যান্য রোগীরাও। এ পর্যন্ত তাদের সেবাগ্রহীতার সংখ্যাও ১১ হাজারের ঘর ছাড়িয়েছে। এবারের সম্মেলনে তার নামটি বেশ জোরেশোরেই আলোচিত হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনীদের প্রতিকী ফাঁসির কর্মসূচিও পালন করেছেন তিনি। এছাড়া তিনি ডাকসু নির্বাচনেও সম্পাদকদের মধ্যে সর্বাধিক ভোট পেয়েছিলেন।

রকিবুল ইসলাম ঐতিহ্যঃ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রমে সরব উপস্থিতির সাথে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কাজের ফলে তৃণমূলের কাছে রকিবুল ইসলাম ঐতিহ্য বেশ জনপ্রিয়। ইতিপূর্বে তিনি অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের ভর্তিতে সহায়তা, অসহায়দের বাড়ি নির্মাণ, গরীব রোগীদের সহায়তা, বন্যা ও করোনাকালীন মহামারিতে ত্রাণ প্রদান, এছাড়াও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় প্রায় ১০ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে তিনি কনসার্ট ফর উষ্ণতার মাধ্যমে প্রায় ৫০ হাজার শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছেন। বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রমের ফলে সবার নজর কেড়েছেন তিনি।

তানবির হাসান সৈকতঃ করোনাকালীন অসহায় মানুষকে খাবার দেয়া ও অন্যান্য মানবিক কাজের জন্য চার বাংলাদেশি তরুণকে ‘রিয়েল লাইফ হিরো’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘ। ২০২০ সালে ১৯ আগস্ট বিশ্ব মানবিক দিবস উপলক্ষে মানবিক কাজে অনুপ্রেরণা যোগাতে জাতিসংঘ বাংলাদেশি এই তরুণকে বিশেষ এই স্বীকৃতি দেয়। ৩০তম সম্মেলনে তিনি শীর্ষ পদপ্রত্যাশী এবং আলোচিত প্রার্থী। তিনি উন্মুক্ত লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠাতা।

মাজহারুল কবির শয়নঃ ছাত্রলীগের নাট্য ও বিতর্ক বিষয়ক উপসম্পাদক এবং ডাকসুর সাবেক সাহিত্য সম্পাদক। ক্যাম্পাসের পরিচত মুখ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক সংসদেরও সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ডাকসুর সাধারণ সভায় তিনি ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব তোলেন। এর আগে তাকে জেনোসাইড ডিনায়াল ল বাস্তবায়ন সহ নানবিধ সামজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে। একজন সুবক্তা এবং শক্তিশালী সংগঠক হিসেবে সুনাম আছে তার।

রাকিবুল হাসান রাকিব: ডাকসুর এই সদস্য বর্তমানে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। তিনিও শিক্ষার্থীবান্ধব ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। ডাকসুর এই সদস্য ব্যক্তিক্রমধর্মী প্রচারণা চালিয়ে সবার নজর কাড়েন। পাশাপাশি ২ জানুয়ারি ১৯৭৩ এ বঙ্গবন্ধুর ডাকসুর আজীবন সদস্যপদের স্মারকপত্র ছিড়ে ফেলার প্রতিবাদে নিন্দা প্রস্তাব উপস্থাপন করে আলোচিত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মভিত্তিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের পেছনেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। করোনাকালীন সময়ে ২৬ মার্চ ২০২০ দেশের প্রথম অনলাইনভিত্তিক টেলিমেডিসিন সেবা চালু করে মানুষের পাশে দাঁড়ান।

তিলোত্তমা শিকদার : করোনার সংকটময় মুহূর্তে ও প্রতিকূল পরিস্থিতি অসামন্য অবদান ও সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ায় অনন্য মানবিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘শেখ হাসিনা ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২০’ পেলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তিলোত্তমা শিকদার। তিনি ডাকসুর শিক্ষার্থীবান্ধব বিভিন্ন করমসূচি অনবদ্য ভূমিকা পালন করেন। শিক্ষার্থীদের ল্যাপটপ ও নারীদের সেলাই মেশিন প্রদান করেন।

ফরিদা পারভিন: বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রমে সামনের থেকে নেতৃত্ব দেওয়া, ডাকসুর বিভিন্ন শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কাজে সম্পৃক্ত তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য মেয়েদের ৫টি হল ও ৫টি অনুষদে মোট ১০টি স্যানিটারি ন্যাপকিনের বুথ স্থাপন।১৫০০ নারী শিক্ষার্থীকে একমাস ব্যাপী সাইকেল প্রশিক্ষণ।মেয়েদের ৫টি হলে অভিজ্ঞ ডাক্তারের দ্বারা জরায়ু ক্যান্সারের ফ্রি সেমিনার প্রদান। ক্লিন ক্যাম্পাসের টিম গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা। ছাত্রীদের জন্য বাসের ট্রিপ বাড়ানোর ক্ষেত্রে ভিসির কাছে স্মারকলিপি প্রদান।করোনাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করা।বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবা প্রদান।অটিস্টিক শিক্ষার্থীদের মাঝে খাবার ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ।

রফিকুল ইসলাম সবুজ তালুকদার: ডাকসুর এই সদস্য বর্তমানে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ঢাবি শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ। করোনাকালীন সময়ে প্রতিষ্ঠিত বিনামূল্যে জিয় বাংলা অক্সিজেন সেবার সহ উদ্যোক্তা। ডাকসু কতৃক প্রকাশিত "স্বাধীনতা সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়" সহ দুইটি বইয়ের সহযোগি সম্পাদক। ঢাবির প্রত্যেকটি হলে মাসব্যাপী চলা "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ট্যালেন্ট হান্ট" আয়োজনের সহ সমন্বয়ক। প্রতিটি হলে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু কর্ণার ও বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের প্রতীকী ফাঁসি আয়োজনে অংশগ্রহণ। করোনাকালীন সময়ে ক্লাব নটরডেমিয়ান্সের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের অর্থ ও খাদ্য সহায়তা। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে টিএসসিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ কতৃক আয়োজিত "প্রগতির মঞ্চে বিজয়ের স্বরলিপি" তে দুটি নাটক মঞ্চায়ন করা হয়।

 

//