‘পাগলি মেয়ে, তুই এভাবে মরতে পারিস না’


RU Correspondent | Published: 2022-09-27 17:19:24 BdST | Updated: 2022-12-03 05:30:51 BdST

‘পাগলি মেয়ে, তুই এভাবে মরতে পারিস না। তুই আত্মহত্যা করতে পারিস না। তোর মতো শান্তশিষ্ট, মৃদুভাষী, সদা হাস্যোজ্জ্বল ভালো মেয়ের হঠাৎ কিসে জীবন এত বিষিয়ে গেল?’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অর্থনীতি বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের মেধাবী ছাত্রী ছন্দা রায়ের মৃত্যুর ঘটনা সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিচার দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. ফরিদ উদ্দিন খান।

 

মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

অধ্যাপক ড. মো. ফরিদ উদ্দিন খান আরও বলেন, ছন্দার মতো মেধাবী শিক্ষার্থী এভাবে আত্মহত্যা করতে পারে না। আমরা সুস্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই এটি কোনো আত্মহত্যা নয়। বিভাগের দাবি যারা বা যে দোষী সুস্পষ্ট তদন্ত করে তাকে দ্রুত বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হোক। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চাই, যাতে ছন্দার মৃত্যুর সঠিক তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম বেগবান হয়।

মানববন্ধনে ছন্দার সহপাঠী বৃষ্টি আক্তার বলেন, ছন্দা এমনটা করবে আমরা ভাবতেও পারি না। আমার জানা মতে ও খুব ঝামেলার মধ্যে ছিল। তবে সেটা যে আত্মহত্যা পর্যন্ত গড়াবে, তা বুঝতে পারিনি। আমরা আমাদের সহপাঠীর মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাচ্ছি, সেই সঙ্গে অভিযুক্তের শাস্তির দাবি জানাই।

এ সময় আরেক সহপাঠী জাবেদুল ইসলাম মনি বলেন, আমার বন্ধু-বান্ধবরা হাসপাতালে গিয়ে তার মরদেহ দেখেছে। একজন আত্মহত্যাকারীর মরদেহ দেখে যেমনটা মনে হয় তার মরদেহ দেখে সেটা মনে হয়নি। তার মরদেহ দেখে মনে হয়েছে তাকে হত্যা করা হয়েছে। মৃত্যুর আগে ছন্দা তার পরিবারকে জানিয়েছে তার বিবাহিত জীবন ভালো যাচ্ছে না। ছন্দার স্বামী কখনো মানসিকভাবে সাপোর্ট করতো না এবং সবসময় সন্দেহ করতো। আমরা আর কোনো বান্ধবীকে হারাতে চাই না। সঠিক তদন্ত করে দোষীদের বিচারের দাবি জানান এ শিক্ষার্থী।

 

মানববন্ধন কর্মসূচিতে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষকসহ প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, তিন মাস আগে ছন্দা রায়ের বিয়ে হয়। তার স্বামী বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরি করেন। চাকরি সূত্রে তিনি স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় থাকতেন। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে নিজ রুমে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেন তিনি। পরে তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর আগে তিনি একটি সুইসাইড নোট লিখে গেছেন। তাতে লিখা ছিল- আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।