মেয়ের মামলায় জেলে পিতা, আরেক মেয়ে বলছেন মামলা মিথ্যা


স্টাফ করেসপনডেন্ট | Published: 2023-03-29 22:03:14 BdST | Updated: 2024-06-14 16:04:56 BdST

পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল খালেক মিয়ার (৬৪) ২য় স্ত্রী গত জুন মাসে মারা যাওয়ার পর ৩০ বছর আগে ডিভোর্স হওয়া ১ম স্ত্রী হাওয়া বেগম (৫০) তাদের বড় ছেলে সোহাগ (৩৬, ফিজিওথেরাপিস্ট) ও মেয়ে রুপা (৩৪ অবিবাহিত, প্রাইভেট চাকরিজীবী) জোর করে তাদের মাকে বয়স্ক বাবার সাথে নতুন করে সংসার করার উদ্দেশ্যে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

তাদের কথায় পিতা আব্দুল খালেক মিয়া রাজি না হলে তার নামে গত নভেম্বর মাসে যৌতুক দাবির অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করে। গত ১১/০৩/২০২৩ তারিখে অনুমতি ছাড়া রাতের আঁধারে ঘর তুলতে যায় তখন খবর পেয়ে বাবা এসে বাঁধা দিলে রুপা অশ্লীল ভাষায় তাকে গালমন্দ করতে থাকে।

বাবা আব্দুল খালেক মিয়া তাকে থামতে বলার পরেও এক পর্যায়ে রুপা তার বাবাকে মারতে আসে। বয়স্ক বাবা কিছু বুঝে না উঠতেই তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে রুপা।উপস্থিত লোকজনেরা দুজনকে শান্ত করার চেষ্টা করলেও রুপা ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করার জন্য নিজের হাত সামান্য কেটে তক্ষণাৎ বাউফল থানায় গিয়ে তাকে 'হত্যার উদ্দেশ্যে ধারাল দা নিয়ে কোপাতে গেছে' এটা উল্লেখ করে বাবা ও তার ছোট ফুফুর নামে ৩০৭, ৩২৩, ৩২৬ ও ৫০৬ পেনাল কোডে মামলা দায়ের করেন। গতকাল পটুয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট তার জামিন নামঞ্জুর করেন। বর্তমানে তিনি পটুয়াখালী জেলা কারাগারে আছেন।

তার ২য় পক্ষের স্ত্রীর সন্তান ফারজানা নিপা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রী ও বর্তমানে এখানেই কর্মরত আছেন। তিনি বলছেন, মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী 'সামান্য আঘাত' অর্থাৎ ৩২৪ ধারায় যায় এই মামলা।

ফারজানা নিপা বলেন, ' আমার সৎ ভাই ও ভাবীর সাথে আমার সৎ মায়ের বনিবনা হচ্ছিল না দেখে তাকে ঢাকার বাসা থেকে বের করে দেয়া হয়। আমার সৎ বোনও তার মায়ের দায়িত্ব নিতে চায় না।আমার সৎ বড় ২ ভাই বোন দুজনকেই আব্বা প্রতিষ্ঠিত করেছেন কিন্তু তাদের কেউই কখনো আব্বার ভরণপোষণ দেয় নাই। এমন অবস্থায় ৩০ বছর আগে ডিভোর্স হওয়া তাদের বৃদ্ধা মাকে আব্বার ঘাড়ে তুলে দিতে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। আব্বা হার্টের রোগী। জানি না মিথ্যা মামলায় জেলে যাওয়া আর ছেলেমেয়ের দ্বারা অপমানিত, অসম্মানিত হওয়ার ধাক্কা সামলাতে পারবে কিনা।'