বাবার কথামতো ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ঋণ’ পরিশোধ করার চেষ্টা করছি: চবি ভিসি


CU Correspondent | Published: 2024-05-26 09:13:06 BdST | Updated: 2024-07-15 02:31:39 BdST

 

‘আমার বাবা আমাকে বলতেন ১২ টাকা বেতনে তুমি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছো, যদি জীবনে কখনো সুযোগ আসে তাহলে এই ঋণ পরিশোধ করার চেষ্টা করবে।’ এখন সুযোগ পেয়ে সেই চেষ্টায় করছেন বলে জানান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ( চবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের।

শনিবার (২৫ মে) সকাল সাড়ে নয়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ মিলনায়তনে এক্সিলেন্স বাংলাদেশ ও মার্কেটিং সোসাইটি ফর লিডারশিপ প্রোলিফারেশনের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় ক্যারিয়ার উৎসব ‘কীরণ মাস্টারকার্ড প্রেজেন্ট চট্টগ্রাম ক্যারিয়ার ফেস্ট ২০২৪’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

উপাচার্য বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মোকাবিলার জন্য আমাদের অগ্রগতি প্রয়োজন। প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্বব্যবস্থার সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় যে কারিকুলামগুলো আছে সেগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশোধন করা প্রয়োজন৷ এছাড়াও রিসার্চ এবং ইনোভেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক সময় বলা হতো গবেষণায় অর্থ নাই, এখন বলা হয় গবেষক নাই। এরপরে প্রয়োজন কো-অপারেশন ও কোলাবোরেশান। আমরা সম্প্রতি ৬২ জন বিদেশি ফ্যাকাল্টিকে নিয়োগ দিয়েছি যারা অনলাইনের মাধ্যমে ক্লাস নিবেন।

তিনি বলেন, আমার বাবা আমাকে বলতেন ১২ টাকা বেতনে তুমি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছো, যদি জীবনে কখনো সুযোগ আসে তাহলে এই ঋণ পরিশোধ করার চেষ্টা করবে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর পেছনে বছরে ২ লক্ষ ১৭ হাজার টাকা খরচ হয়। একজন ছাত্র ৫বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকলে তার পেছনে আমাদের খরচ প্রায় ১১ লক্ষ টাকা। আমি আমার বাবার বলা কথা মনে রেখেছি, সেটা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছি।

তিনি আরো বলেন, প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রাজুয়েশন শেষ করা শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়ছে কিন্তু চাকরির সুযোগ অনেক কম। শিক্ষার্থীদের যেসব দক্ষতা ও যোগ্যতার অভাব রয়েছে সেগুলো পূরণ করতে হবে। সারা বিশ্বের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন রকমের ভাষায় দক্ষতা অর্জন করছে। আমাদের শিক্ষার্থীদের তা অর্জন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণায় কাজ করতে হবে। গবেষণায় যারা কাজ করবে বিশ্ববিদ্যালয় তহবিল থেকে তাদের সাহায্য করা হবে। শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন স্কিল অর্জন করতে হবে। তাহলেই সফলতা আসবে।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি আলোচক ছিলেন এসিআই লজিস্টিক লিমিটেড (স্বপ্ন) ম্যানেজিং ডিরেক্টর সাব্বির নাসির, বিল্ড আইকন কনসালটেন্সিস লিমিটেডের ফাউন্ডার এন্ড ম্যানেজিং পার্টনার মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, শার্ক ট্যাংক বাংলাদেশের সিইও ফাহিম মাশরুর, ব্রাক ব্যাংকের সিএমও ইন্দ্রনীল চট্টপাধ্যায়, বারকোড রেস্টুরেন্ট গ্রুপ ফাউন্ডার মঞ্জুরুল হক, বিডস একোনমি লিমিটেড ম্যানেজিং ডিরেক্টর জিসান কিংশুক হক, র‍্যাংকন রিয়াল এস্টেট এন্ড সি ফিশিংয়ের সিইও তানভীর শাহরিয়ার রিমন।

আরও ছিলেন প্রথম আলোর চিফ ডিজিটাল বিজনেস অফিসার জাবেদ সুলতান পিয়াস, মেন্টর চিটাগংয়ের ম্যানেজিং পার্টনার মানজুমা মুর্শেদ, মনের বন্ধুর ফাউন্ডার এন্ড সিইও তাওহিদা শিরোপা, আমাল ফাউন্ডেশনের ফাউন্ডার এন্ড ডিরেক্টর ইসরাত করিম ইভ, নিজের বলার মত একটা গল্প ফাউন্ডেশনের ফাউন্ডার ইকবাল বাহার জাহিদ, গ্রামীণ ডানোন ফুডস লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর দীপেশ নাগ, দ্যা ডেইলি স্টারের ফিচার এডিটর অ্যান্ড হেড অফ কন্টেন্ট মার্কেটিং এহসানুর রাজা রনি, ইউনাইটেড নিউজ অফ বাংলাদেশের ডিজিটাল প্রোডাক্ট লিড ও র‍্যান্টেজের ফাউন্ডার রুম্মান কালাম, ইমপ্যাক্ট একাডেমির সিইও নাফিজ সেলিম, কিংকর আহসান, খান ফারহানা, ইমতিয়াজ চৌধুরী, সানজিদ হোসাইন এবং দ্যা ডেইলি স্টারের চিফ বিজনেস অফিসার ও কীরণের চিফ অপারেটিং অফিসার তাজদীন হাসান।

এছাড়াও মিউজিক সেশন পরিচালনা করেন সাদী মোহাম্মাদ শাহ নেওয়াজ এবং অনুষ্ঠানে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ছিলেন এক্টর এন্ড ডিরেক্টর শারাফ আহমেদ জীবন।