বিদেশে পড়াশোনা ও দেশে চাকরি কীভাবে সামলান নাবিলা?


Desk report | Published: 2022-03-15 15:45:24 BdST | Updated: 2022-09-28 18:33:33 BdST

কর্পোরেট জীবনে সফল ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায়ও ভালো করাটা জরুরি। এমনটাই বিশ্বাস করেন এক সময়ের জনপ্রিয় আরজে ও বর্তমানে পাঠাও-এর মার্কেটিং ডিরেক্টর সৈয়দা নাবিলা মাহবুব। আর তাই উচ্চশিক্ষার জন্য নাবিলা দেশ ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছেন সুদূর কানাডায়। তিনি সেখানে সেন্ট ম্যারি’স ইউনিভার্সিটিতে ‘টেকনোলজি এন্টারপ্রিনিউরশিপ অ্যান্ড ইনোভেশন’ বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। চাকরি, পড়াশোনা ও ব্যক্তিগত জীবন একইসঙ্গে নাবিলা কীভাবে সামলান তা অনেকের কাছেই রহস্য!

নাবিলার জন্মস্থান আর বেড়ে উঠা ঢাকাতেই। স্কলাসটিকা স্কুল থেকে বিজনেস স্টাডিজে ‘এ লেভেল’ এবং ‘ও লেভেল’ পাশ করেছেন তিনি। এরপর ‘ব্যাচেলর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি থেকে। নাবিলার বাবা ব্যবসায়ী ও মা উদ্যোক্তা হওয়ায় কর্পোরেট জীবনের প্রতি আগে থেকেই তার ঝোঁক ছিল। তাই রেডিও ফূর্তিতে আরজে হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করলেও পরে যোগ দিয়েছেন বাংলালিংকে। নাবিলা সেখানে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ এর দায়িত্ব পালন করতেন। তবে নাবিলার ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় সুযোগ হয়ে এসেছে দেশের সর্ববৃহৎ রাইড শেয়ারিং প্লাটফর্ম পাঠাও। প্রতিষ্ঠানটিতে নাবিলা বৈষম্যহীন ও বন্ধুত্বপূর্ণ কর্মপরিবেশ খুঁজে পাওয়ার পাশাপাশি নিঃসকোচে নিজেকে মেলে ধরতে পেরেছেন।

চাকরির পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়ায় পাঠাও-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নাবিলা বলেন, “পাঠাও কর্মীদের কথা সবসময় ভেবে থাকে। তাই আমার জন্য কাজের পরিবেশ সহজ করে উৎসাহ দিয়েছে কর্মজীবনের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে। চাকরির পাশাপাশি মাস্টার্স করা ও এতো বড় টিম পরিচালনা মোটেই সহজ কাজ নয়। কিন্তু আমার বস আর পুরো টিম আমাকে সাপোর্ট করছে। কর্পোরেট জীবনে সফল ক্যারিয়ার গড়তে উপযুক্ত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।”

নিত্যদিনের চাপ কমাতে নাবিলা রুটিন অনুযায়ী কাজের প্রায়োরিটি ঠিক করেন ও শিডিউল মেইন্টেইন করেন। অফিসের অধিকাংশ কাজই করে থাকেন ভার্চুয়ালি। নাবিলা মনে করেন, যথেষ্ট পরিশ্রমী এবং উদ্যমী হলেও পরিবার ও কর্মক্ষেত্রের সহযোগিতা না পেলে এদেশে মেয়েদের ক্যারিয়ার গড়া একটু কঠিন-ই। সেই অর্থে তিনি কিছুটা সৌভাগ্যবান।

নিজ ক্যারিয়ারে পরিবারের অবদান উল্লেখ করে নাবিলা বলেন, “আমি উদার ও সংস্কৃতমনা মনে বড় হয়েছি। বাবা কাজের পাশাপাশি থিয়েটার এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাই বাসায় সৃজনশীল বিষয়গুলোর চর্চা হতো। বাবা-মা আমাদের তিন বোনকে যোগ্য করে বড় করতে চেষ্টা করেছেন। তাই আমার বেড়ে উঠায় পরিবার ভূমিকা অনেক। এছাড়া আমার হাজবেন্ডও বেশ সাপোর্টিভ।”

নারীদের জীবনে বড় হতে চাইলে আত্মবিশ্বাসটা ধরে রাখা জরুরি বলে মনে করেন তিনি। নাবিলা অন্যদের অনুপ্রেরণা দিয়ে বলেন, “কঠিন কাজটায় নিজেকে চ্যালেঞ্জ করতে শিখতে হবে। চেষ্টা না করে কখনো হাল ছাড়া যাবে না। ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে বারবার চেষ্টা করতে থাকুন। বাঁচার মতো বাঁচুন, নিজেকে ভালোবাসুন ও হাসিমুখে থাকুন।”