ছাত্রলীগের নামে অপকর্মে জড়িতদের ধরতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কাদেরের অনুরোধ


স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | Published: 2023-02-19 08:50:47 BdST | Updated: 2024-07-24 05:04:48 BdST

ছাত্রলীগের নামে নানা ‘অপকর্মে’ জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে অনুরোধ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, গুটিকয়েক অপকর্মকারীদের জন্য আওয়ামী লীগের বদনাম হতে পারে না। এদের কারণে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ম্লান হচ্ছে।

আজ শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত শান্তি সমাবেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ এই সমাবেশের আয়োজন করে।

আওয়ামী লীগ নেতা এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ছাত্রলীগের পরিচয় ব্যবহার করে যেসব অপকর্ম হচ্ছে, এগুলো দুর্বৃত্তের কাজ। এই দুর্বৃত্তরা দলের নাম ব্যবহার করে। এদের পরিচয় দুর্বৃত্ত। এদের আওয়ামী লীগের কোনো সংগঠনে থাকার অধিকার নেই। অপকর্মকারীদের শেখ হাসিনা ছাড় দেন না। বিশ্বজিৎ হত্যাকারীরা ছাত্রলীগ পরিচয়ে রক্ষা পেয়েছে? বুয়েটের আবরার হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত, ছাত্রলীগ পরিচয়ে তারা ছাড় পেয়েছে? এদের বিচার হয়নি? এরা রক্ষা পায়নি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও আমি বলেছি, এদের শুধু দল থেকে বহিষ্কার করলে হবে না। এদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে। এই গুটিকয়েক দুর্বৃত্তের জন্য আওয়ামী লীগের বদনাম হতে পারে না। যারা অপকর্ম করবে তাদের বিরুদ্ধেও খেলা হবে।

অর্থ পাচারকারীদের সাবধান করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শেখ হাসিনা কঠোর হচ্ছেন। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। যাঁরা অন্যায় করবেন, অপরাধ করবেন দলের পরিচয় ব্যবহার করে, তাঁদের ছাড় নেই। আমরা এত উন্নয়ন করছি আর গুটিকয়েক অপকর্ম করে সেটা ম্লান করবে, সেটা আমরা হতে দেব না।’

আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, অপকর্মকারীদের দলে স্থান দেবেন না। এদেরকে এনে মিছিল বড় করার দরকার নেই।

জনগণ যত দিন আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখবে, তত দিন ক্ষমতায় থাকবে এ কথা দাবি করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক। বিএনপির আন্দোলনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি লাফালাফি ও বাড়াবাড়ি করছে। জনগণের কাছে এখনো ডাক দিয়ে সাড়া ফেলতে পারেনি। সংবিধান থেকে এক চুল আমরা নড়ব না। নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী। কোনো নড়নচড়ন হবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার একেবারেই ভুলে যান। ওই অস্বাভাবিক ও অসাংবিধানিক সরকার বাংলাদেশে আসবে না।’

বিএনপির উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকার পদত্যাগ করবে কেন? মামাবাড়ির আবদার? কোন দোষে সরকার পদত্যাগ করবে। কী কারণে নির্বাচনের আগে সরকারের পতন হবে? কারণটা কী? হাওয়া ভবনের যুবরাজকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য? খাম্বা সরকারকে বাংলাদেশের মানুষ আর ক্ষমতায় বসতে দেবে না।

আগামী এক বছরের জন্য আওয়ামী লীগ কর্মসূচি দিয়েছে বলে আবারও জানান ওবায়দুল কাদের। বিএনপির পাল্টাপাল্টি কোনো কর্মসূচি তাঁরা দিচ্ছেন না বলেও দাবি করেন তিনি। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এই বিষয়ে বলেন, প্রতিদিনই কর্মসূচি চলবে বাংলাদেশের যেকোনো জায়গায়। কখনো সম্মেলন, কখনো শান্তি সমাবেশ, কখনো গণসংযোগ—এই ভাবে। আওয়ামী লীগ কর্মসূচি দিয়ে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত মাঠে থাকবে, জনগণের ঘরে ঘরে যাবে।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘কাউকে নামতে দেব না, এই কথা বলব না। সবাই নামুক। রাজপথ সবার। আপনাদের (বিএনপি) আমরা ভয় পাই না। ভয় অগ্নিসন্ত্রাসকে।’

আওয়ামী লীগ বিরোধী দলকে পাহারা দিচ্ছে বলে বিএনপি নেতারা যে বক্তব্য দিচ্ছেন, সে প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমিও বলছি আমরা পাহারাদার, জনগণের স্বার্থে আমরা পাহারাদার। অগ্নিসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে পাহারাদার। এরা কখন আগুন নিয়ে মাঠে নামে বলা মুশকিল। সে জন্য জনগণের জানমাল নিরাপত্তায় পাহারা দেব। আপনারা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেবেন, আর আমরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দৃশ্য অবলোকন করব, কীভাবে সেটা হবে? তাদের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে পারি না। তাদের অধিকার নেই ক্ষমতায় বসার।’

আবোলতাবোল না বলে নির্বাচনে আসতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘হুমকি–ধমকি দিয়ে লাভ নেই। পালাবেন আপনারা, আমরা পালাব না। আমাদের পালানোর জায়গা বাংলাদেশ। আমরা দেশের বাইরে পালাব না।’

গত এক যুগে বিএনপির সম্মেলন হয়নি বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। এ বিষয়টি তারা সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের বৈঠকেও উপস্থাপন করেছেন বলে জানান তিনি। কাদের বলেন, ‘তাদের ভেতরেই গণতন্ত্রের চর্চা নেই, তারা দেশে গণতন্ত্র কীভাবে আনবে।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সহসভাপতি নুরুল আমিনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির প্রমুখ। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন দক্ষিণ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন।