ইবিতে ব্যাচ-ডে উদযাপন নিয়ে মারামারি, পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ


IU Correspondent | Published: 2023-03-21 02:46:01 BdST | Updated: 2024-02-22 04:36:18 BdST

সম্প্রতি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ কর্তৃক আয়োজিত ব্যাচ-ডে অনুষ্ঠান 'অবতরণিকা উৎসব' উপলক্ষে টি-শার্ট বিতরণ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারি ঘটনা ঘটেছে। এতে তিন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। গত ১৬ মার্চ দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা মঞ্চ প্রাঙ্গণে এই ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা বরাবর পাল্টা-পাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তরা। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি আমলে নিয়েছে প্রক্টরিয়াল বডি। সোমবার (২০ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে মারামারির ঘটনার পর প্রথম পর্যায়ে বিচার দাবি করে ভুক্তভোগী পক্ষ। ঘটনার দু’দিন পর একই দাবিতে পাল্টা অভিযোগ করেছেন অপর পক্ষ। উভয় পক্ষই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। এ দিকে রবিবার অভিযুক্তরা ছাত্র উপদেষ্টা ও প্রক্টর বরাবর ভিন্নভাবে অভিযোগ দেয়। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়েরের পর প্রকৃত ঘটনা ও তথ্যসহ বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে আলাদাভাবে ২৮ জন শিক্ষার্থীর স্বাক্ষর সম্বলিত একটি অভিযোগ পত্র প্রক্টর বরাবর জমা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার দিন মারামারিতে আহত ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মুশফিকুর রহমান ও রানা আহমেদ অভি প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। সেখানে তারা বলেন, প্রক্টরের অনুমতিকল্পে গত ১৬ মার্চ আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবতরণিকা উৎসবে অংশ গ্রহণ করেছিলাম। আনুমানিক ২ টার সময় বাংলা মঞ্চে ব্যবস্থাপনা বিভাগের ক্লাস প্রতিনিধি তাসিন ইসলাম রাহিন এর নেতৃত্বে একই বিভাগের রাব্বি, ল এন্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী মোবারক হোসেন আশিকসহ ব্যবস্থাপনা, মার্কেটিং বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগ থেকে ব্যাচের উৎসবে উপস্থিত ও হল থেকে আগত প্রায় ত্রিশ থেকে চল্লিশ জন পরিকল্পিতভাবে লাঠিসোঁটা, বাঁশ, গাছের ডাল, বাটাম, পড়ে থাকা রান্নার খড়ি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে মুশফিকুর রহমান, সাব্বির শাওন ও রানা আহমেদ অভি আহত হয়। আহতরা সবাই ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। লিখিত অভিযোগে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানায় ভুক্তভোগীরা।

পরে গত শনিবার রাহিন, শরিফুল, আশিক, ফুয়াদ ও রাব্বি ফকিরসহ ২৮ শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে অভি, মুশফিক ও সাব্বিরদের বিরুদ্ধে পাল্টা লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগপত্রে তারা বলেন, গত বৃহস্পতিবার প্রজ্বলিত ৩৫ ব্যাচের ‘অবতরণিকা উৎসব’-এ অংশগ্রহণের জন্য টিএসসিসির করিডোরে একত্রিত হই। এ সময় টি-শার্ট নিয়ে আমাদের সাথে মুশফিক, সাব্বির ও অভির সাথে বাগবিতণ্ডা হয়। বিষয়টি সিনিয়রদের হস্তক্ষেপে সেখানেই মীমাংসা করা হয়। পরে মুশফিকুর রহমান, সাব্বির শাওন ও রানা আহমেদ অভি স্থানীয়দের সাথে আমাদের আশেপাশে বাইক নিয়ে মহড়া দিচ্ছিল। এ ছাড়াও তারা আমাদের ব্যাচের বান্ধবীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। তাদের খারাপ ব্যবহার সহ্য করতে না পেরে আমাদের এক বান্ধবী প্রোগ্রাম ছেড়ে চলে যায়। এ সময় আমরা নিজ উদ্যোগে তাদের সাথে সৃষ্ট ঘটনা সমাধান করতে গেলে তারা আমাদেরকে বলে, ‘ক্যাম্পাসের গেইট পার হলে কিন্তু আমাদের বাড়ি, চিনিস আমাদের, মেরে একদম পুঁতে ফেলবো। এক পর্যায়ে তাসিন ইসলাম রাহিনকে ইট দিয়ে আঘাত করতে আসে মুশফিকুর রহমান। এ সময় আমরা মুশফিককে প্রোগ্রাম শেষে এই অপ্রীতিকর ঘটনার সমাধান করার বিষয়ে প্রস্তাব করি। কিন্তু তারা স্থানীয়দের সাথে নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ আমাদের উপর অতর্কিতে হামলা চালায়। এ সময় তাদের সাথে আমাদের হাতাহাতি হয়। এতে আমাদের কয়েকজন বন্ধু আহত হয়। তাদের তাৎক্ষণিকভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ দিকে পরবর্তীতে তারা আমাদের যেখানেই পাবে সেখানেই মেরে ফেলার হুমকি দেয় এবং এই তিনজনের মধ্যে রানা আহমেদ অভি (প্রতিদিনের বাংলাদেশ ও ভোরের ডাকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি) ক্যাম্পাসে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বেড়ায়। এ ছাড়া সে আামদের নামে মিথ্যা ও বানোয়াট নিউজ করেছে। এমতাবস্থায় আমরা আতঙ্কগ্রস্ত। আমরা সৃষ্ট ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাসিন ইসলাম রাহিন বলেন, তাদের উপর আমরা কোনো আক্রমণ করিনি। আমাদের নিজেদেরই ব্যাচ ডে হচ্ছিলো। সেখানে একটু বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়েছিলো। তারা এই বিষয়টাকে ইস্যু করে বড় করার চেষ্টা করছে।

এ বিষয়ে রানা আহমেদ অভি বলেন, তারা যে অভিযোগ করেছে তা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও মিথ্যা। তারা তাদের অপরাধ ঢাকতে এক ধরনের ধুম্রজাল তৈরির চেষ্টা করছে।

এ বিষয়ে সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুর্শিদ আলম বলেন, উভয় পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়েছি। আগামীকাল আমাদের এ বিষয়ে মিটিং আছে। সেখানে আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেন আজাদ বলেন, উভয় পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি আমলে নিয়ে প্রক্টর এবং ছাত্র উপদেষ্টার যৌথ সভার আহ্বান করা হয়েছে। এরপর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

//