কর্মবিরতিতে অচল বুটেক্স: নেই ক্লাস, স্থগিত পরীক্ষা


Desk report | Published: 2024-07-09 20:01:32 BdST | Updated: 2024-07-15 02:00:03 BdST

অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত সর্বজনীন পেনশন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনকে 'বৈষম্যমূলক' আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। তাদের আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাদান কার্যক্রম প্রায় দুই সপ্তাহ বন্ধ রয়েছে। কবে শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হবে তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে তৈরি হয়েছে দুশ্চিন্তা। পাশাপাশি সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত করায় তৈরি হয়েছে সেশন জটের শঙ্কা।

বুটেক্স শিক্ষক সমিতি ঘোষিত সর্বাত্মক কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষকরা কর্মবিরতির পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের গ্রাউন্ড ফ্লোরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। তাদের দাবি, 'প্রত্যয়' স্কিম বাতিল, সুপার গ্রেডে অন্তর্ভুক্তি এবং স্বতন্ত্র বেতনস্কেল চালু করা।

শিক্ষকদের পাশাপাশি সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে রয়েছে বুটেক্স কর্মকর্তা সমিতি ও কর্মচারী সমিতি। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যৌথ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কর্মবিরতি পালন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন ও ক্যাম্পাসজুড়ে প্রতিবাদ মিছিল করেন তারা। তাদের দাবি, প্রত্যয় স্কিম থেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্তি প্রত্যাহার, অভিন্ন নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদোন্নয়ন নীতিমালা সংশোধন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য স্বতন্ত্র পে-স্কেল প্রদান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অবসরের বয়সমীমা ৬৫ বছরে উন্নীতকরণ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সর্বাত্মক কর্মবিরতির ফলে ক্লাস কার্যক্রম বন্ধ এবং পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। ঈদুল আজহার ছুটি শেষে গত ২৬ জুন প্রকাশিত এক নোটিশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৬-৪৭-৪৮-৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ক্লাস কার্যক্রম শুরু ১ জুলাই বলা হলেও আন্দোলনের ফলে তা শুরু হয়নি। ক্লাস শুরুর নোটিশ পেয়ে শিক্ষার্থীদের কিছু অংশ আবাসিক হলে চলে আসার পর এমন পরিস্থিতির কারণে তাদের সময় কাটছে অনিশ্চয়তায়। এদিকে হলের ডাইনিং বন্ধ থাকায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হাসিবুল হাসান জানান, ১ জুলাই থেকে ক্লাস শুরুর নোটিশ পেয়ে ঢাকায় ফিরি। কিন্তু চলমান আন্দোলনের কারণে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। সেমিস্টারের শুরুতে ক্লাস বন্ধ থাকলে সেমিস্টারের শেষের দিকে ল্যাব, শ্রেণি পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যাবলি অনেক বেশি চাপ সৃষ্টি করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। সাড়ে পাঁচ বছরেও তাদের স্নাতক শেষ হয়নি। বাকি রয়েছে চূড়ান্ত সেমিস্টার পরীক্ষা। ১১ জুলাই থেকে তাদের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়েছে। পরীক্ষা স্থগিতের বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, ১১ ও ১৫ জুলাইয়ের পরীক্ষা স্থগিত এবং ২০ জুলাই হতে পরীক্ষা শুরু হবে।