'টিউশনই শিক্ষা ক্যাডার পেতে সাহায্য করেছে'


Cumilla | Published: 2022-04-03 02:31:07 BdST | Updated: 2024-05-20 15:22:43 BdST

নাঈমুর রহমান রিজভী

"যদি লক্ষ্য থাকে অটুট বিশ্বাস হৃদয়ে হবেই হবে দেখা, দেখা হবে বিজয়ে" বিখ্যাত এই গানটির সাথে আমরা সবাই পরিচিত। গানটির মর্মার্থ হলো কেউ যদি নিজের লক্ষ্য ঠিক রাখতে পারে তাহলে তার স্বপ্ন পূরণ হবেই। তেমনি এক সফল নারীর নাম নার্গিস আকতার। বাবা মারা যাওয়ার পর পরিবারের উপর নির্ভরশীল না হয়ে টিউশন করে যুগিয়েছেন নিজের পড়ালেখার খরচ। এবং এই টিউশনই ছিলো তার শিক্ষা ক্যাডার হওয়ার অন্যতম পাথেয়। ৪০ তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছেন তিনি।

২০১৪ সালে বাবাকে হারান নার্গিস।এরপর থেকে পরিবারের উপর নির্ভরশীল না হয়ে টিউশন করে নিজের খরচ যুগিয়েছেন। সেমিস্টার ফি ছাড়া বাড়ি থেকে কোনো টাকা নিতেন না।এই টিউশনই নার্গিসকে সফলতা এনে দিয়েছে।

নার্গিস আকতারের বাড়ি কুমিল্লা শহরের কাটাবিলে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০১১-১২ সেশনের ষষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। মাস্টার্স সেকেন্ড সেমিস্টারে থাকাকালীন কুমিল্লা মডার্ন হাইস্কুলে নন এমপিওভুক্ত শিক্ষক হিসেবে চাকরির যাত্রা শুরু করেন। চাকরির পাওয়ার ১ মাস পর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। একদিকে সংসার সামলানো, পড়ালেখা, এবং অন্যদিকে শিক্ষকতা- সবকিছুকে একসাথে ব্যালেন্স করতে থাকেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন সময়ে বিসিএস ক্যাডার হতে হবে এমন কোন ইচ্ছা ছিলো না তার। তবে নন- এমপিও টিচার থাকাকালীন নন-এমপিও চাকরির স্থায়িত্ব নেই, চাকরির নিরাপত্তা নেইসহ আরো অনেক কথা শুনতেন তিনি। এই কথাগুলো তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। শুরু হয় নতুন যুদ্ধ। তিনি মনস্থির করলেন চাকরি যখন করবেন ভালো ভাবেই করবেন। সে অনুসারে তিনি নিজেকে প্রস্তুত করতে লাগলেন।

মডার্ন হাইস্কুলে ১ বছর তিন মাস চাকরি করার পর তিনি
কুমিল্লা শহরের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে ৩ বছর চার মাস কর্মরত ছিলেন। এরপর নন ক্যাডার শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন ফেনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে।
বর্তমানে সেখানেই কর্মরত আছেন। অন্ত্ব:সত্তা অবস্থায় ৪১তম বিসিএস এর রিটেন এবং ৪০তম বিসিএসের ভাইভায় অংশ নিয়েছেন। তার এই সংগ্রামে অনুপ্রেরণা দিয়ে অনেক বেশি অবদান রেখেছেন স্বামী মোজাম্মেল হক সজীব। যিনি বর্তমানে নওয়াব ফয়জুন্নেসা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।

তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, স্রোতের গা না ভাসিয়ে স্বপ্ন দেখতে শিখো। কোচিং সেন্টারের পিছনে না ছুটে নিজে ঘরে বসে চেষ্টা করো। নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। তাহলেই সফলতা আসবে।

অনুভূতি প্রকাশ করে নার্গিস আকতার বলেন, আমার এই অবদানের পিছনে আমার পরিবার, শিক্ষক, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয় স্বজনদের দোয়া এবং আমার স্বামীর সহযোগিতা ছিলো। আমি আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতে চাই। অনেকে মনে করে এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিসে যুক্ত থাকলে কিংবা বিয়ে করে ফেললে পড়ালেখা হয় না। এটা আসলে ভুল ধারণা। পড়ালেখা আপনার নিজের কাছে। আপনি যদি সবকিছু ব্যালেন্স করতে পারেন তাহলে সবকিছুই ঠিকভাবে হবে। আমি বিসিএস এর জন্য খুব বেশি পড়ালেখা করিনি। সত্যিকথা বলতে চাকরি, সংসার সামলিয়ে পড়াশোনায় সময় দিতে পারতাম না।টিউশন আমাকে সহযোগিতা করেছে। টিউশন করানোর কারণে আমি অনেক এগিয়ে ছিলাম অন্যদের তুলনায়।