ঢাবিতে চার গুণী অধ্যাপককে শ্রদ্ধায় স্মরণ


DU Correspondent | Published: 2024-03-10 13:07:23 BdST | Updated: 2024-05-24 21:27:44 BdST

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সাবেক গুণী শিক্ষক ও গবেষক অধ্যাপক আবদুল মমিন চৌধুরী, অধ্যাপক কে এম মোহসীন, অধ্যাপক এবি এম মাহমুদ এবং রতন লাল চক্রবর্ত্তীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৯ মার্চ) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজুল ইসলাম লেকচার হলে ইতিহাস বিভাগের আয়োজনে এই স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় গুণী অধ্যাপকদের সংক্ষিপ্ত কর্মজীবন পাঠ করেন অধ্যাপক সানিয়া সিতারা এবং অধ্যাপক মিলটন কুমার দেব।

অধ্যাপক সানিয়া সিতারা বলেন, বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাস রচনায় দরকার সংস্কৃত ও পালি ভাষায় দক্ষতা, প্রত্নতত্ত্ব ও মুদ্রাতত্ত্বের জ্ঞান। কেননা প্রাচীন ইতিহাসের লিখিত উৎসসমূহ পালি, সংস্কৃত ভাষায় রচিত এবং সহায়ক উৎস হলো প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান। বাংলার প্রাচীন যুগের ইতিহাস চর্চার এই প্রতিবন্ধকতা উত্তরণ করে সংস্কৃত ভাষার পাণ্ডিত্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক জ্ঞানের সমন্বয়ে প্রাচীন বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের যে কাঠামো আবদুল মমিন চৌধুরী নির্মাণ করেছিলেন তা আজও প্রাচীন বাংলা ও প্রাচীন ভারতের ইতিহাস গবেষকদের কাছে অনুসরণীয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে ইতিহাস গবেষণা, শিক্ষাদান ও পাঠ্যক্রম রচনায় এই চারজন মহান শিক্ষকের কৃতিত্ব অপরিসীম। অধ্যাপক আব্দুল মমিন চৌধুরী প্রাচীন বাংলার ইতিহাস, ভূগোল ও বাংলার জনজীবন, স্থাপত্য ও শিল্প-ইতিহাস, মধ্যযুগের ধর্মীয়, সামাজিক ইতিহাস রচনায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। অধ্যাপক রতন লাল চক্রবর্তীর ঔপনিবেশিক বাংলার সমাজ, সংস্কৃতি এবং অর্থনীতি, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্যাগের ইতিহাস রচনায় তিনি মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। এই গুণী পণ্ডিতদের মৃত্যুতে বাংলাদেশের ইতিহাসবিদদের একটি প্রজন্মের অবসান হয়। দেশ ও জাতির দিক নির্দেশনা এবং জ্ঞান সাধনায় তাদের অপূরণীয়।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক ইফতেখার-উল-আউয়াল, অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক শরীফ উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক জাহানারা হক চৌধুরী, অধ্যাপক শরীফউল্লাহ ভূঁইয়া এবং ইতিহাস বিভাগের প্রাক্তনীরা গুণী অধ্যপকদের শিক্ষাজীবন, কর্মজীবন স্মৃতিচারণ করে ইতিহাসে তাদের অনবদ্য অবদানকে তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক আবু মো. দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আবদুল বাছির, ঢাবি বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক ফকরুল আলম। এছাড়াও অধ্যাপকদের শিক্ষার্থী, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।