বাংলাদেশে আগে উন্নয়ন, পরে হয় পরিকল্পনা: ঢাবি উপাচার্য


DU Correspondent | Published: 2024-05-28 19:43:43 BdST | Updated: 2024-06-19 14:28:09 BdST

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে আগে প্ল্যানিং (পরিকল্পনা) তারপর নগরায়ণ করা হয়। কিন্তু আমাদের দেশে আগে উন্নয়ন পরে প্ল্যানিং করা হয়। এটি অনেক বড় সমস্যা। কারণ নগরায়ণ হয়ে যাওয়ার পরে প্ল্যানিং করাটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

মঙ্গলবার (২৮ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত অষ্টম নগর সংলাপে এসব কথা বলেন উপাচার্য। স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পথে টেকসই নগরায়ণ বিষয়ে এ সংলাপের আয়োজন করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগ এবং ২০টি আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কনসোর্টিয়াম, আরবান আইএনজিও ফোরামের যৌথ আয়োজনে নগর সংলাপের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

হেবিট্যাট ফর হিউম্যানিটি ইন্টারন্যাশনালের ন্যাশনাল ডিরেক্টর জেমস স্যমুয়েলসের সভাপতিত্বে সংলাপের উদ্বোধনী সেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে ব্র্যাকের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. লিয়াকত আলী, কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মানিষ কুমার আগারওয়াল এবং গ্লোবালওয়ান বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার রায়হান মাহমুদ কাদেরী বক্তব্য রাখেন। সংলাপে মূল ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল।

সংলাপে বক্তারা বলেন, বিভিন্ন দিক থেকে এবারের নগর সংলাপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৫ সালে চলতি অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্পন্ন হবে এবং ২০২৬ সাল থেকে নবম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হবে। যার লক্ষ্য হবে এলডিসি পরবর্তী জাতীয় উন্নয়ন, বিশেষ করে নগরভিত্তিক উন্নয়নের জন্য একটি সময়োপযোগী পথনকশা এবং বিনিয়োগ কাঠামো প্রদান করা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, আমরা (বাংলাদেশ) মাত্র ০.৪৬ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ করি। আর আমাদের যে এফেক্ট, আমাদের যে মাথাব্যথা, এটা কিন্তু আমাদের ভাবিয়ে তোলে। যারা নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে শহরে চলে আসছে তাদের থাকার জায়গা দুটি। তারা থাকছেন বস্তিতে আর ব্যবসা করছেন ফুটপাতে, এটা হচ্ছে বাস্তবতা।

মেয়র বলেন, এই বাস্তবতাকে মাথায় নিয়েই কিন্তু আমাদের কাজগুলো করতে হবে। আমি যেটি বলতে চাই, বিভিন্ন ব্যুরো থেকে লোকসংখ্যার হিসাব দেওয়া হয়। কিন্তু আমরা দেখেছি, শুধুমাত্র ঢাকা উত্তর সিটিতেই এক কোটি বিশ লাখের বেশি লোক বসবাস করে, ঢাকা দক্ষিণেও একই অবস্থা। জনসংখ্যার যে হার, প্রতি বর্গকিলোমিটারে উনপঞ্চাশ হাজার, কিছু জায়গায় আরও বেশি।

প্রসঙ্গত, আরবান আইএনজিও ফোরাম বাংলাদেশ ২০টি আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার একটি কনসোর্টিয়াম, যা ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই ফোরামের উদ্দেশ্য হলো নগর উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় সাধন এবং বিভিন্ন পর্যায়ের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে নেটওয়ার্কিং এর মাধ্যমে সহযোগিতা নিশ্চিত করা এবং অনানুষ্ঠানিক বসতিতে নিম্ন-আয় সম্প্রদায়ের টেকসই উন্নয়ন সাধন করা। এই উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে ২০১৩ সাল থেকে আরবান ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।