বৃষ্টিতে ভিজেও রাবি শিক্ষকদের কর্মবিরতি, টানা ৭ দিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ


Abu Saleh Shoeb | Published: 2024-07-09 18:55:42 BdST | Updated: 2024-07-15 01:13:59 BdST

সর্বজনীন পেনশনের ‘প্রত্যয় স্কিম’ প্রত্যাহার এবং শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তনের দাবিতে টানা ৭ম দিনের মতো সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষকেরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চলমান থাকবে বলে জানান তাঁরা।

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) বেলা ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ সিনেট ভবন সংলগ্ন প্যারিস রোডের পাশে ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা। এসময় বৃষ্টি নামলে ছাতা হাতে অবস্থান নিতে দেখা যায় তাদের।

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, সরকার শিক্ষকদের আন্দোলন নিয়ে চিন্তিত নন বরং শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে চিন্তিত। এগুলো শিক্ষকদের জন্য হতাশাজনক। এই আন্দোলন শিক্ষকদের ব্যক্তিগত কোনো আন্দোলন নয়। তারা এ আন্দোলন করছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য যারা এ মহান পেশায় আসতে চাই।

কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. প্রণব কুমার পান্ডে বলেন, 'সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষকদের বেতন কাঠামোর একটি তুলনামূলক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে আছে। এরপরেও যদি প্রত্যয় স্কিমে শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয় তাহলে ভবিষ্যতে শিক্ষকতার মতো এ মহান পেশায় মেধাবী শিক্ষার্থীরা আসতে চাইবে না।'

তিনি আরও বলেন, 'আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শিক্ষকদের সাথে বসতে চেয়েছিলেন কিন্তু তার ব্যস্ততার কারণে বসতে পারেননি। আমি বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে একটি যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষকদের পাশে দাঁড়াবেন।'

রাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক হাবিবুর রহমান বলেন, ‍‍'কিছু স্বার্থান্বেষী মহল আমাদের এ অবস্থান কর্মসূচিকে অন্যদিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে তারা সফল হবে না। আমরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাব। প্রত্যয় স্কিমে ৪০৩ ধরনের শ্রেণি রয়েছে। তারা যেহেতু কোনো আন্দোলন করছে না, সেহেতু আমরা তাদের দায়িত্ব নিতে পারব না। আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি, এই প্রত্যয় স্কিম থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নাম প্রত্যাহার করার জন্য।'

কর্মসূচিটি সঞ্চালনা করেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ওমর ফারুক সরকার। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এনামুল হক। কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ইন্সটিটিউটের প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।