কোটা পুনর্বহালের রায়ের প্রতিবাদে উত্তাল ঢাবি ক্যাম্পাস


ঢাকা | Published: 2024-06-06 20:54:58 BdST | Updated: 2024-07-15 03:08:07 BdST

সরকারি চাকরিতে বেতন কাঠামোর ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডে (আগের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির) মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এই রায়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (৬ জুন) বিকেল ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়টির কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে সমবেত হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। এরপর কয়েকশ শিক্ষার্থী একটি মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের গুরত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে একটি সমাবেশ আয়োজন করেন।

পুরো কর্মসূচিতে তাদেরকে ‘মানি না মানব না, কোটা পদ্ধতি কোটা পদ্ধতি’; ‘বাতিল চাই বাতিল চাই, কোটা পদ্ধতি কোটা পদ্ধতি’; ‘মানি না মানব না, কোটা পদ্ধতি পুনর্বহাল’; ‘আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’; ‘কোটা বৈষম্য নিপাত যাক, মেধাবীরা মুক্তি পাক’; ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’; ‘১৮ এর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’; ‘সকল কোঠা বাতিল হোক, যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি হোক’; ‘আমজনতার হাহাকার, গর্জে উঠুক আরেকবার’; ‘কোটামুক্ত নিয়োগ হোক, যোগ্য প্রার্থীর চাকরি হোক’ ইত্যাদি সংবলিত স্লোগান দিতে দেখা যায়।

এ ছাড়া সমাবেশে অবিলম্বে সরকারি চাকরিতে সকল প্রকার কোটা বাতিলের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা ২০১৮ সালে কোটা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। আমরা তখন রক্ত দিয়েছি। তার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এ কোটা পদ্ধতি বাতিল করেছিল। আবারও হাইকোর্ট সেই কোটা পুনর্বহাল করেছে, আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা হাইকোর্টের এ রায়কে প্রত্যাখ্যান করছি।

তারা বলেন, একটা দেশে কখনো ৫৬ শতাংশ কোটা থাকতে পারে না। এটা সেই দেশের মেধাবীদের সঙ্গে তামাশা করার মতো। আমরা আমাদের সঙ্গে এ তামাশা মেনে নেব না। আমরা রাজপথে এসেছি, আজকের এটা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া। আমরা আবারও কালকে আসব। যদি এ রায় বহাল থাকে তাহলে আমরা রাজপথে আবারও নামতে বাধ্য হব। আমরা আমাদের দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরে যাব না।

সমাবেশে এবি যুবাইর নামে এক ঢাবি শিক্ষার্থী বলেন, ৫৬ ভাগ কোটা নিঃসন্দেহে মেধাবীদের মেধার সঙ্গে একধরনের উপহাস। চাকরির ক্ষেত্রে কোটার ফলে তুলনামূলক যোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না। ফলশ্রুতিতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়া। বাড়ছে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা, বাড়ছে বৈষম্য। তাই দেশ ও দশের স্বার্থে এই অযৌক্তিক কোটা সিস্টেম সংস্কার করে বৈষম্য কমানোর দাবিতে আমাদের আজকের এই কর্মসূচি আয়োজন করা। হাইকোর্টের কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত বাতিল না করা পর্যন্ত আমাদের এ আন্দোলন চলমান থাকবে।

বাংলা বিভাগের মাহিন সরকার বলেন, আমাদের দাবি কোটা বাতিল নয় বরং সংস্কার। মুক্তিযোদ্ধা কোটা এখানে স্পষ্ট বৈষম্য সৃষ্টি করছে। এই কোটার হার কমিয়ে প্রকৃতপক্ষেই যাদের কোটা প্রয়োজন তাদের জন্য বরাদ্দ রাখা হোক।

প্রসঙ্গত, বুধবার (৫ জুন) সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর জারি করা পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এ রায়ের ফলে সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বহাল থাকলো বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। এর প্রতিবাদে এদিনই সন্ধ্যায় বিক্ষোভ মিছিল করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।