প্রধান বিচারপতি

যারা রাস্তায় আছে আমাদেরই ছেলেমেয়ে, ভুল বুঝে আন্দোলন করছে


Desk report | Published: 2024-07-10 23:44:15 BdST | Updated: 2024-07-15 02:59:58 BdST

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের পরিপত্র ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের ওপর একমাসের স্থিতাবস্থা দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

এ সংক্রান্ত শুনানি নিয়ে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, এখানে যে দুজন সাধারণ শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন তারা একটা পক্ষাবলম্বন করেছেন। তাদের কিছু কথা আছে। আর যারা রাস্তায় অবস্থান করছেন (আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা) তাদেরও কিছু কথা আছে। তবে তারা যেটা করছে, মনে হয় যে তারা ভুল বুঝেই করছে। যাই হোক, রাস্তায় যারা তারা আমাদেরই ছেলেমেয়ে।

হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে করা পৃথক দুটি আবেদনের শুনানি নিয়ে বুধবার (১০ জুলাই) দুপুরে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান এ কথা বলেন। এদিন প্রধান বিচারপতি নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ কোটা নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ে স্থিতাবস্থার আদেশ দেন।

এসময় পর্যবেক্ষণ দিয়ে আপিল বিভাগ বলেন, স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদকারী ছাত্রছাত্রীরা চাইলে তাদের আইনজীবীর মাধ্যমে বক্তব্য আদালতে তুলে ধরতে পারবেন। আদালত মূল দরখাস্ত নিষ্পত্তিকালে তাদের বক্তব্য বিবেচনায় নেবেন।

পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনায় আপিল বিভাগ বলেন, সব প্রতিবাদী কোমলমতি ছাত্রছাত্রীকে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে গিয়ে নিজ নিজ কাজে, অর্থাৎ পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে বলা হলো। দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টর এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা তাদের ছাত্রছাত্রীদের নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে নিয়ে শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করবেন বলে আদালত আশা করেন। স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীরা চাইলে আইনজীবীর মাধ্যমে তাদের বক্তব্য এই আদালতের সামনে তুলে ধরতে পারেন। আদালত মূল আবেদন নিষ্পত্তির সময় তাদের বক্তব্য বিবেচনায় নেবেন।

আদালতের আদেশের পরে অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন বলেন, আপিল বিভাগ স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে বলেছেন। অর্থাৎ যেমন আছে, তেমন থাকবে। কোটা বাতিলসংক্রান্ত ২০১৮ সালের পরিপত্রের ভিত্তিতে যেসব সার্কুলার দেওয়া হয়েছে, সে ক্ষেত্রে কোটা থাকছে না।

 

শুনানিতে প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, হাইকোর্ট একটা জাজমেন্ট দিয়েছেন, সেটি আমাদের সামনে এখন নাই। সেটা শুনানি করতে হবে, রায়টি আমাদের সামনে আসুক আগে। বিষয়টি হলো কিছু কথা। আমরা তো সমাজের মানুষ। একটা জাজমেন্ট হাইকোর্টে হয়ে গেছে। আমাদের যেসব ছাত্রছাত্রীরা যারা আন্দোলন করছেন তাদের তো মনে একটা গিবার্স আছে, তারা যেটা মনে আসছে সেটাই বলছেন। রাস্তায় নেমেছে, রাস্তায় নেমে শ্লোগান দিচ্ছে।

এ সময় পাশ থেকে একজন আইনজীবী কথা বলতে থাকেন। প্রধানবিচারপতি তাকে থামিয়ে বলেন, প্লিজ চিফ জাস্টিস কথা বলার সময় কেউ কথা বলবেন না। প্রধান বিচারপতি বলেন, তো তারা যেটা করেছে সেটা এপিশিয়ের্ট করার মতো না।

প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, কিন্তু মনে হয় যে তারা ভুল বুঝেই করেছে। যাই হোক যেটাই করেছে তারা আমাদেরই ছেলেমেয়ে। আমরা প্রথম দিনই বলেছিলাম, রাস্তায় স্লোগান দিয়ে রায় ঠিক হয় না। এটা আজকে না, এটা আরও একটি মামলায় আগেও বলেছিলাম, যখন ট্রাইব্যুনালে ছিলাম তখনো বলেছিলাম, যে রাস্তায় শ্লোগান দিয়ে জাজমেন্ট চেঞ্জ করা যায় না। প্রপার স্টেপ নেন। আজকে ধন্যবাদ জানাই শাহ মুঞ্জুরুল হককে, তার কাছে দুটো ছেলে আসছে, তারা একটা পক্ষাবলম্বন করেছেন। তাদের কিছু কথা তো আছে, এই ছেলে মেয়েদের, যারা রাস্তায় লিড করছে। তাদেরও কিছু কথা আছে।

তিনি বলেন, তাদের এই কথা শোনবে কে? আমরাও তো মানুষ। আমরা যখন দেখি টকশোতে কত কথা, কত রকমের কথা! মনে হয় যেন সব জ্ঞান তাদেরই যারা কোটাবিরোধী। আর আমরা যারা এখানে বসে আছি, আমাদের কোনো জ্ঞানই নেই। আমাদের মাথার মধ্যে কিচ্ছু নাই। এত কথা বলে উস্কানি দেওয়ার কোনো মানে হয় না। বিষয়টি স্বল্প করতে হবে।

প্রধান বিচারপতি বলেন, যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তারা কেন বলেন না। যারা বড় বড় জায়গায় আছেন তারা কেন বলেন না। তোমরা কোর্টে যাও। কারো না কারো মাধ্যমে কোর্টে যাও। গেলে পরে কোর্ট সেটা দেখবে।

তিনি বলেন, আমাদের ক্ষমতা আছে হাইকোর্টের জাজমেন্ট চেঞ্জ করে দেবো। আমরা সরকারকে নির্দেশনা দিয়ে দেবো। আবার হাইকোর্টে জাজমেন্টকে বলতে পারি এটা ঠিক হয়নি। আমরা বলতে পারি এটা কারেক্ট জাজমেন্ট। কোনটা বলবো এটা আমাদের সামনে না আসা পর্যন্ত বলতে পারছি না।

আদেশের সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানগণরা তাদের ছাত্রছাত্রীদের ফিরিয়ে নিয়ে শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করবেন মর্মে আদালত চান।