'গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় সিলেকশন বাতিল চাই'


ঢাকা | Published: 2021-08-28 12:50:21 BdST | Updated: 2021-09-17 12:36:46 BdST

গুচ্ছ তে সিলেকশন বাতিল চাই ! অটো পাশের জিপিএ দিয়ে সিলেকশন আমরা মানি না! এই বছর এইচএসসি পাস করেছে ১৫ লাখ শিক্ষার্থী। গুচ্ছতে ২০টি ভার্সিটিতে ৫০হাজার করে শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিলেও ১০ লাখ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারবে। তাহলে কেন বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গুচ্ছতে ২০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ১ লাখ ৩১ হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিবে? যেখানে বিজ্ঞান বিভাগে এবার অটোপাশে এ+ পেয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার! এই অনিয়ম অন্যায় আমরা মানি না।

শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, "অটোপাশ উচ্চশিক্ষায় প্রভাব ফেলবে না"
আর ইউজিসি বলেছিলো,"গুচ্ছ ভর্তিপরিক্ষা মুজিবর্ষের উপহার"।

এমন সিলেকশন নামক প্রহসনের উপহার তো আমরা চাই নি! আমাদের বিজ্ঞান বিভাগের সবাইকে গুচ্ছ ভর্তিপরিক্ষায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে মেধা যাচাই এর সুযোগ করে দিন।

এইচএসসি ২০২০, যারা কিনা পরীক্ষায় বসার এক সপ্তাহ আগে করোনা আতঙ্কে পরীক্ষা দেবার সুযোগ হারায়। আর তারপর থেকে শুরু হয় অনিশ্চয়তা। দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর ঘোষণা আসে প্রেডিক্টেট রেজাল্টের ফলাফল ঘোষণার, এর পর থেকেই একের পর এক হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে যাচ্ছে স্বায়ত্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

ফলাফল ঘোষণাকালে মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী মহোদয় শিক্ষার্থীদের নিশ্চিন্ত করলেও উচ্চশিক্ষা গ্রহণে একের পর এক তোপের মুখে ভর্তিচ্ছুরা।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, ইঞ্জিনিয়ারিং গুচ্ছ, বুটেক্স, কৃষি গুচ্ছ, সাধারণ ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি গুচ্ছে ২০ বিশ্ববিদ্যালয় অনড় তাদের শিক্ষার্থী বাছাই করে পরীক্ষা নেয়ায়। এতে অনেক মেধাবী হারিয়ে যাচ্ছে গহীনে। অথচ চাইলেই মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এমনকি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যায় শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ের পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া যেত। নির্বাচন পদ্ধতিতে একটি শ্রেণি তৈরি হয়েছে যারা কিনা সব জায়গায় পরীক্ষা দিতে পারছে আর বাকি সব শিক্ষার্থী অটোপাসের দরুণ রসানলে ডুবছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগে ৪৫ হাজার, বুটেক্সে ৯ হাজার, বুয়েটে ২৪ হাজার, ইঞ্জিনিয়ারিং গুচ্ছ ৩০ হাজার, কৃষি গুচ্ছ ৩৫ হাজার, সমন্বিত গুচ্ছ পরীক্ষায় ১ লাখ ৩১ হাজার (১ লাখ ৫০ হাজার নেয়ার কথা ছিল) পরীক্ষার্থী নিচ্ছে, এতে জিপিএ ৭.০০-৯.০০ ধারীরা একেবারেই উপেক্ষিত। অথচ গুচ্ছ ব্যতীত আলাদা ভর্তি পরীক্ষা হলে প্রত্যেকেই কোথাও না কোথাও পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ পেত।

গুচ্ছে ১১টি বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও ৯টি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় থাকা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তহীনতায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা হতাশ। বিশ্ববিদ্যালয় আছে কিন্তু বিশ্ব মান নেই, এটা কখনোই কাম্য নয়।

এটা কোনো শিক্ষা ব্যবস্থার মানদণ্ড হতে পারে না, এই ধারনা থেকে দেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে শিগগিরি বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। নয়তো মেধা পাচারের পরিক্রমায় এক ঝাঁক মেধাবী হারিয়ে যাবে অতলে, ভুক্তভোগী হবে এ জাতি।

লেখকঃ রহমতুল্লাহ, শিক্ষার্থী