পদ্মা সেতু ও সত্যের জয়


Dhaka | Published: 2022-06-15 22:42:58 BdST | Updated: 2022-12-05 20:55:23 BdST

বাংলাদেশের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের সবচেয়ে বড় উন্নয়নের প্রতীক পদ্মাসেতু।সেতুটি বাংলাদেশের স্বনির্ভরতার চিহ্নিত দিক হিসেবে দৃশ্যমান ।এই সেতু নির্মাণ দক্ষিণ বাংলার মানুষের দীর্ঘ লালিত স্বপ্নের বাস্তবায়ন। সেতুটি নির্মাণের বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সরকার বিরাট সাফল্যের পরিচয় দিয়েছে।

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পরই সেতু নির্মাণের সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করে।স্বাভাবিকভাবে তখনকার যোগাযোগ মন্ত্রী হিসেবে সৈয়দ আবুল হোসেন কাজটি নিষ্ঠার সাথে শুরু করেন।সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী যেহেতু নিজে পদ্মাপাড়ের মানুষ খুব স্বাভাবিকভাবে এই সেতু নির্মাণের উপকারিতা নিজেই পাবেন, তাই সেতু নির্মাণ তার একটি আবেগের বিষয়ও বটে। সেতু নির্মাণের শুরু থেকেই সকল নিয়ম-নীতি মেনে কার্যক্রম শুরু করেন সাবেক মন্ত্রী ও তার মন্ত্রণালয়। যেহেতু বৈদেশিক ঋণ সহায়তায় সেতু নির্মাণ করা হবে তাই দাতা সংস্থার পরামর্শ আমলে নেয়া হয়। তাই সেতু মন্ত্রণালয় ও সরকারের উচ্চপর্যায় তাদের সাথে অনেক আলোচনা, সভা, সেমিনার করেন।

সকল কাজ যখন ঠিকঠাক এগিয়ে যাচ্ছিল ঠিক তখনই সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রীসহ আরও কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দিকে দুর্নীতির অভিযোগে তোলা হয়।অভিযোগ পৌঁছানো হয় দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক) পর্যন্ত। এমনকি দুদককে চাপ প্রয়োগ করা হয় সৈয়দ আবুল হোসেনসহ আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করার জন্য, যদিও অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিতে পারেনি দাতা সংস্থা। তথাপি সরকারের উপর নানাভাবে নানান জায়গা থেকে চাপ আসতে থাকে।সরকাকেও বিব্রত করে। প্রাথমিকভাবে অনেকে মনে করেছিলো সাবেক মন্ত্রী দুর্নীতিগ্রস্থ! যদিও মন্ত্রী বারবার মিডিয়ার সামনে এমনকি দুদকে গিয়েও বলেছে তিনি নির্দোষ এবং পদ্মা সেতুতে কোন দুর্নীতি হয়নি। যারা আবুল হোসেনকে জানেন তারা মনে প্রাণে বিশ্বাস করতেন আবুল হোসেন একজন বিরাট মনের ব্যক্তিত্ব, যার প্রতিষ্ঠিত শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে,যিনি শিক্ষার আলো ছড়িয়েছেন মাদারীপুর জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে,অসংখ্য ব্রিজ, কালভাট,রাস্তা নির্মাণ করছেন যোগাযোগব্যবস্থা জন্য সারা দেশব্যাপী।

যিনি নিজের অর্থায়নে অনেক স্কুল, কলেজ,মাদ্রাসা পরিচালনা করে আসছেন যুগের পর যুগ।তাছাড়া তিনি এদেশের অন্যতম সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী নাগরিক।তিনি চেয়েছিলেন পদ্মা সেতু নির্মাণের অংশীদার হতে, চেয়েছিলেন দক্ষিণ বাংলার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন সফল করায় আত্মনিয়োগ করতে।কিন্তু দেশি-বিদেশি বিভিন্ন কুচক্রীমহল বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদকে অসত্য ও ভিত্তিহীন অভিযোগ দিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

কিন্তু বাস্তবতা হলো মানুষের হৃদয়ে আবুল হোসেন একজন আদর্শ দেশপ্রেমিক।সময়ের পরিক্রমায় অভিযোগ তদন্ত করে কানাডা আদালত এই মহান ব্যক্তিকে নির্দোষ রায় দিয়েছে। দেশের সংস্থাও তাকে অব্যহতি দিয়েছে।অথচ এর মধ্য মহান ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় ফিকে হয়ে গেছে!! কিন্তু এই মহান ব্যক্তি দেশের উন্নয়নের জন্য, শিক্ষার উন্নয়নের জন্য,সমাজের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন যা কখনো থমকে যায়নি।

সরকারও বুঝতে পেরেছিলো আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে একটি বিরাট ষড়যন্ত্র হয়েছে।যাইহোক বাংলাদেশ সরকার পুরো বিশ্ববাসীকে অবাক করে দিয়ে নিজ অর্থায়নে স্বপ্নময় পদ্মাসেতু নির্মাণ শুরু ও শেষ করেছে।শুধু একজন সৎ ও দেশপ্রেমিক আবুল হোসেন হারালেন অনেক কিছু। তাকে সবকিছু ফিরিয়ে দেয়াও সম্ভব হবে কিনা কে জানে!তবে তিনি জয় করেছেন মানুষের ভালবাসা, শ্রদ্ধা।পদ্মা সেতুর সাথে মিশে থাকবে দেশের জন্য নিবেদিত প্রাণ সৈয়দ আবুল হোসেন।সত্যের জয় একসময় হয়ে যায় পদ্মা সেতু তার প্রমাণ। দেশ এগিয়ে যাবে দেশপ্রেমিক মানুষের কর্মে।উন্নয়নের যাত্রায় অপ্রতিরোধ্য সোনার বাংলাদেশ।

লেখক,
মোহাম্মদ রেজাউল (রেজা)
ঢাকা,বাংলাদেশ।
[email protected]