গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষাঃ প্রত্যাশা অনুযায়ী কতটা শিক্ষার্থী বান্ধব?


ঢাকা | Published: 2021-11-04 17:21:36 BdST | Updated: 2021-12-04 08:32:11 BdST

দেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, থাকা নিয়ে সমস্যা, অর্থ ব্যয়সহ নানান দুর্ভোগ লাঘবের জন্য এ বছর প্রথমবারের মতো একসঙ্গে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দেশের ২০টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা। বিজ্ঞান মানবিক, বাণিজ্য গুচ্ছের এই তিন ইউনিটের পরীক্ষা এবং ফলাফল প্রদান ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তবে গুচ্ছের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের শিক্ষার্থীদের একধিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।হঠাৎ করে বিভাগ পরিবর্তন ইউনিট না রাখার সিদ্ধান্ত, পরীক্ষার ফি বাড়িয়ে দ্বিগুণের অধিক করা, পরীক্ষা কেন্দ্র অনেকের নিজ নিজ এলাকায় না পড়া, কর্মদিবসে পরীক্ষাসহ আরও অনেক সমস্যা।

ভোগান্তি হ্রাসে ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে একসঙ্গে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ প্রথমে সাদরে গ্রহণ করেছি এবং সকলেই এটাকে সমর্থন দিয়েছিল।এরপর এত এত সমস্যা থাকার পর আমরা অনেক স্বপ্ন এবং প্রত্যাশা নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি।পরীক্ষার কেন্দ্রে ঘড়ি না থাকা, ওএমআর শিটে শিক্ষকের স্বাক্ষর না দেয়ার মত সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে পরীক্ষার কেন্দ্রে গিয়ে।
সবচেয়ে বেশি কষ্টের কথা হচ্ছে গুচ্ছ পদ্ধতিতে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় আমাদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন করা হয়নি।অনেকে একটি প্রশ্নের উত্তর না করেও নম্বর পেয়েছেন। আবার কেউ কেউ ৭৫টি প্রশ্নের উত্তর করলেও দেখাচ্ছে পুরো ১০০টি প্রশ্নের উত্তর করেছে। আর ‘বি’ ইউনিটে ইংরেজিতে ৩৫টি প্রশ্ন থাকলেও কোনো কোনো শিক্ষার্থীর ফলাফলে আসছে ইংরেজিতে ৩৮টি উত্তর করেছে। এছাড়া প্রত্যাশা অনুযায়ী নম্বরও আসেনি। পরবর্তীতে ফলাফল ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নিয়ে ভুল ফলাফল ঠিক করে আবার প্রকাশ করলেও কোনো লাভ হয়নি।

এখানেই শেষ নয়।এখন পর্যন্ত গুচ্ছ পদ্ধতিতে শুধু পরীক্ষা শেষ হয়েছে এবং ফলাফলে শুধু আমাদের প্রাপ্ত নম্বর প্রদান করা হয়েছে।ভর্তি কার্যক্রম এখনও শুরু হয়নি।বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ভর্তি বিজ্ঞপ্তিও প্রদান করেনি।শুধু যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের প্রথম বর্ষের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।যে বিজ্ঞপ্তি দেখেও আমাদের মাথায় হাত পড়ছে।কারণ সেখানে তারা প্রতিটি অনুষদে আবেদন ফি বাবদ ৬৫০ টাকা ধার্য করেছে। যা সম্পূর্ণ অমানবিক।কারণ একজন ছাত্র একাধিক অনুষদে আবেদন করতে চাইলে তাকে প্রতিটা অনুষদ ভিত্তিক ৬৫০ টাকা দিতে হবে।যা ঠান্ডা মাথায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার পদ্ধতি বলে মনে হচ্ছে।একজন শিক্ষার্থী যদি ৪ টি অনুষদে আবেদন করে তাহলে তার ২৬০০ টাকা লাগবে,যেখানে আরও ১৯ টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।একজন মোটামুটি নম্বর পাওয়া ছাত্রের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক অনুষদে আবেদন করতেই হবে কারণ আসন তুলনামূলক কম।আর ফলাফলে কোনো মেরিট দেয়া হয়নি।যদি গুচ্ছ না হয়ে আলাদা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতো তাহলে একটা নির্দিষ্ট ফি দিয়ে পরীক্ষা দেয়া যেত।কিন্তু এখন আরো বেশি খরচ হচ্ছে।তাহলে আমাদের এত এত সমস্যা মোকাবেলা করে গুচ্ছ পরীক্ষা দিয়ে কি লাভ হলো।যেখানে বলা হয়েছিলো গুচ্ছ পরীক্ষা শিক্ষার্থী বান্ধব হবে।এখন ভোগান্তিও ভোগ করতে হলো,সবকিছু মেনে নিতেও হলো।ফলাফলের ভূতও মেনে নিতে হলো।তাহলে কি একথা বলতে হবে যে গুচ্ছ কমিটি আমাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।হাজার হাজার শিক্ষার্থীর স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছ।তার ওপর আবার আগামী বছর থেকে তো সেকেন্ড টাইম থাকছেনা বলে জানিয়ে দিয়েছে। এইসএসসি ২০ ব্যাচ অটোপাস থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি।যাইহোক শেষ মুহূর্তে আপনাদের কাছে একটাই চাওয়া যে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনো ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেয়নি তারা যেনো কোনো সিদ্বান্ত নেয়ার আগে আমাদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের কথা একটু ভাবে। আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী গুচ্ছ পদ্ধতি যেন সত্যিই শিক্ষার্থী বান্ধব হয়।ধন্যবাদ।

লেখকঃ
সুয়েল হক।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী