ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'সেকেন্ড টাইম' পুনরায় বহালের দাবি


মোঃ রাফি হাসান | Published: 2021-12-05 20:05:30 BdST | Updated: 2022-01-18 20:01:41 BdST

জ্ঞান, বিজ্ঞান, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় এবং আধুনিক বিশ্বের সাথে বাংলাদেশকে তাল মিলিয়ে চলার অন্যতম চালিকাশক্তি স্বরূপ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশেই শীর্ষ স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের একাধিকবার অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদান করে, ভর্তি পরীক্ষায় উন্মুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সেকেন্ড টাইম নেই অথচ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক বার ভর্তি আবেদনের সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশে শীর্ষ স্থানীয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একের অধিক ভর্তি পরীক্ষায় বসার সুযোগ না দেওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই দুঃখজনক।

প্রসঙ্গত ২০১৪ সালে প্রশ্নফাঁস, বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন ফাঁকা হয়ে যাওয়াসহ ফার্স্ট টাইমারদের সুবিধার কথা ভেবেই 'সেকেন্ড টাইম' বন্ধ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কতৃপক্ষ। কারণ দেখিয়েছে, পরিক্ষার্থীর চাপের জন্য, অথচ এবার সিদ্ধান্ত হয় ঢাবি বিভাগীয় পর্যায়ে পরিক্ষা নেবে। সেকেন্ড টাইম বন্ধ রাখার কারণে দেশের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীরা তাদের ছোট বেলা থেকে লালন করা স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

অনেক চেষ্টা, পরিশ্রম করার স্বত্তেও হেরে যাওয়া শিক্ষার্থীরা আর কোনো সুযোগের রাস্তা না পাওয়ায় হতাশায় ভেঙ্গে পড়ছে। হয়তো আরেকটা সুযোগ পেলে এই হতাশায় থাকা শিক্ষার্থীদের দ্বারা উজ্জীবিত হতো ঢাবির ক্যাম্পাস। জীবনের প্রতিকূল পরিবেশে সফলতা অর্জনের যাত্রায় মাঝে মাঝে ব্যর্থতা আসে।কিন্তু বার বার চেষ্টাই তা সফলতার রূপ নেয়।

তাই ব্যর্থ হয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণের দিকটি বিবেচনা করে সেকেন্ড টাইম পুণরায় বহালের মাধ্যমে আমাদের থমকে যাওয়া স্বপ্নের বাস্তব রূপ ফিরে আসার সুযোগ করে দিন। মেডিকেলে সেকেন্ড টাইম রয়েছে এজন্য ৫ মার্ক মাইনাস করা হয়। মেডিকেলে সুযোগ থাকলে ঢাবিতে কেনো নয়?

সেকেন্ড টাইম রাখলে যেসব সমস্যা সৃষ্টি হতো সে সমস্ত বিষয়ের ভিন্ন উপায়ে সমাধান রয়েছে। প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে নিরাপত্তা, গোপনীয়তা বৃদ্ধি করা। ফার্স্ট টাইমারদের সুবিধা দিতে,সেকেন্ড টাইমারদের প্রতিটি MCQ ভূল উত্তরের জন্য ০.২৫ মার্ক কর্তনের পরিবর্তে ০.৫ মার্ক কর্তন করা।পূর্বে ভর্তি হওয়া আসন যেন ফাঁকা না হয় সে জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের জন্য দ্বিতীয় বার পরীক্ষার সুযোগ বাতিল করা।

উপরোক্ত পদক্ষেপ এর মাধ্যমে সেকেন্ড টাইম পুনরায় বহাল করলে আমরা বিশ্বাস করি, বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষার্থীদের কোনো অসুবিধা হবে না। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ বিভাগীয় শহরগুলোতে পরীক্ষা নেওয়ায়, পরীক্ষার্থীদের আসন সংকটসহ অন্যান্য অসুবিধাগুলো পূর্বের তুলনায় হ্রাস পাবে এবং আমরা আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভর্তি পরীক্ষা পূণাঙ্গ সিলেবাসেই হবে। তাই এই বছর সেকেন্ড টাইম রাখার মাধ্যমে অন্যান্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যায় ভর্তি পরীক্ষায় উন্মুক্ত পরিবেশ এবং তীব্র প্রতিযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি করে দিন।

মহামারি করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ এইচএসসি ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষের পূর্ণতার উপহার স্বরূপ বাংলাদেশের শীর্ষ স্থানীয়, সুনামধন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেকেন্ড টাইম পুণরায় বহাল রাখার জোর দাবি জানাচ্ছি।