রাজশাহীতে বীরাঙ্গনাদের নিয়ে নির্মিত 'আর কত বলবো' তথ্যচিত্র প্রদর্শনী


Abu Saleh Shoeb | Published: 2024-05-25 22:47:50 BdST | Updated: 2024-06-19 12:11:21 BdST

রাজশাহীতে বীরাঙ্গনাদের নিয়ে নির্মিত 'আর কত বলবো' তথ্যচিত্র প্রদর্শনী করা হয়েছে। শনিবার (২৫ মে) রাত সাড়ে ৭টা রাজশাহীর নগর ভবনের মিলনায়তন কেন্দ্রে নারীপক্ষ'র আয়োজনে এ তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

রাজশাহীর মুক্তিযুদ্ধ এবং ৮জন বীরাঙ্গনা নারীর নির্যাতনের সাক্ষাৎকার নিয়ে ৪০ মিনিট ব্যাপ্তির এ তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছে নারীপক্ষ। এতে উঠে এসেছে রাজশাহীর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, গণহত্যা করে গণকবর দেওয়ার চিত্র, নারীদের অত্যাচার-নির্যাতনসহ মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন চিত্র।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বীরাঙ্গনা নারীদের সম্মান, মর্যাদা এবং বেঁচে থাকার পূর্ণ অধিকার প্রতিষ্ঠা, তাঁদের জীবনাভিজ্ঞতা জাতীয় ইতিহাসের অংশ করা এবং নতুন প্রজন্মকে জানানো কার্যক্রম হাতে নিয়ে এ তথ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছে নারীপক্ষ।

তথ্যচিত্র প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল, রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান বাদশা, নারী পক্ষের সমন্বয়কারী ফিরদৌস আজিম।

তথ্যচিত্র প্রদর্শনী শেষে রাসিক মেয়র তার বক্তব্য বলেন, ১৯৭১ সালের তান্ডবে বীরাঙ্গনারা তখন নির্যাতিত হলেও পাকিস্তানের কাছে কোনো তথ্য স্বীকার করেনি। নারীদের নির্যাতন করে তাদের সম্মানহানি করেছে। তারা সারা জীবন এ গ্লানি টেনে বেড়াচ্ছে। আমরা অকৃতজ্ঞ জাতি, স্বাধীনতার ৫৩ বছর পার হলেও, তাদের যথাযত সম্মান দিতে পারিনি। পাকিস্তানি বাহিনী বন্দুক দিয়ে এ ইতিহাস মুছার চেষ্টা করেছিলো কিন্তু পারেনি। আজ তার চেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে নতুন প্রজন্ম এ গৌরব উজ্জ্বল ইতিহাস ভুলে যাচ্ছে। পরিবার এবং শিক্ষকরা এ শিক্ষা কেন দিচ্ছে না এটা গবেষণা করা উচিত। আমরা নারীপক্ষের সাথে ছিলাম, আছি ও থাকবো। এসময় নারীপক্ষকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

উল্লেখ্য, নারীপক্ষ কর্মসূচির সাথে যুক্ত অনেক বীরাঙ্গনা সরকারিভাবে গেজেটভুক্ত হয়েছেন এবং কয়েকজন বীরাঙ্গনা গেজেটভুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। যাঁরা গেজেটভুক্ত হয়নি তাঁদের মধ্যে বর্তমানে বিভিন্ন জেলার মোট ৫৩ জন বীরাঙ্গনাকে আট হাজার টাকা করে মাসিক অর্থ সহায়তা প্রদান করছে নারীপক্ষ। এ পর্যন্ত ১০০ জন বীরাঙ্গনাকে অর্থ সহায়তা প্রদান এবং ২২ জনকে চিকিৎসা সহায়তা দেয়া হয়েছে। এছাড়াও ৪ জন বীরাঙ্গনা বোনের ঘর মেরামত এবং ২৪ জন বীরাঙ্গনা বোনকে বন্যা, জলাবদ্ধতা ও দূর্যোগে খাদ্য সামগ্রী ও অর্থ সহায়তা দেয়া হয়েছে।