গ্রিক রাজপুত্র প্রিন্স ফিলিপকে নিয়ে চমকপ্রদ সব তথ্য


ঢাকা | Published: 2021-04-09 23:16:24 BdST | Updated: 2021-05-14 06:45:00 BdST

গ্রিসের এক রাজপরিবারের সন্তান ছিলেন ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলেজাবেথের স্বামী প্রিন্স ফিলিপ। অভ্যুত্থানের মুখে তাদের দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ইংল্যান্ডে তাদের আশ্রয় মেলে।

নৌবাহিনীর ক্যাডেট হিসেবে প্রথম দেখাতেই ইংল্যান্ডের ভবিষ্যৎ রানি রাজকুমারী এলিজাবেথের মন জয় করেন তিনি। খবর বিবিসির।

• প্রিন্স ফিলিপ অব গ্রিস করফু দ্বীপে ১৯২১ সালের ১০ জুন জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন প্রিন্স অ্যান্ড্রু অব গ্রিস, রাজা প্রথম জর্জ অব হেলেনসের কনিষ্ঠ পুত্র।

তার মা প্রিন্সেস অ্যালিস অব ব্যাটেনবার্গ, প্রিন্স লুইস অব ব্যাটেনবার্গের বড় সন্তান। আর বোন আর্ল মাউন্টব্যাটেন অব বার্মা।। ইংল্যান্ডের রাজপরিবারের মাউন্টব্যাটেনরা ছিলেন তার মায়ের দিকের আত্মীয়।

• প্রিন্স ফিলিপের জন্ম সনদে লেখা জন্ম তারিখ আর প্রকৃত জন্ম তারিখ এক নয়। জন্ম সনদে লেখা আছে ১৯২১ সালের ২৮ মে। যদিও তিনি জন্ম গ্রহণ করেন ১৯২১ সালের ১০ জুন। এই গরমিলের কারণ গ্রিসে তখনো পর্যন্ত গ্রেগরিয়ান পঞ্জিকা চালু হয়নি।

• ১৯২২ সালে গ্রিসে এক অভ্যুত্থানের পর রাজপরিবার তাদের ক্ষমতা হারায়। বিপ্লবীরা তাদের সেখান থেকে নির্বাসনে পাঠান। ইংল্যান্ডের রাজা পঞ্চম জর্জ একটি যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে পুরো পরিবারকে উদ্ধার করে নিয়ে যান।

• প্রিন্স ফিলিপের মা পরবর্তী জীবনে সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হন। তাকে একটি মানসিক রোগীদের চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানো হয়। মায়ের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল খুবই কম।

• প্রিন্স ফিলিপের সঙ্গে প্রিন্সেস এলিজাবেথের প্রথম দেখা হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে। তখন প্রিন্সেস এলিজাবেথের বয়স মাত্র ১৩। রাজা ষষ্ঠ জর্জ এসেছিলেন ডার্টমুথ কলেজ সফরে। সঙ্গে প্রিন্সেস এলিজাবেথ এবং প্রিন্সেস মার্গারেট।

তখন প্রিন্স ফিলিপ সেখানে নৌবাহিনীর এক তরুণ ক্যাডেট। এই দুজনকে সঙ্গ দেওয়ার দায়িত্ব পড়ে প্রিন্স ফিলিপের ওপর। সুদর্শন প্রিন্স ফিলিপ এই সময় প্রিন্সেস এলিজাবেথের মনে গভীর ছাপ রাখতে সক্ষম হন।

এরপর দুজনের মধ্যে প্রেম এবং চিঠি চালাচালি। প্রিন্স ফিলিপ বেশ কয়েকবার রাজপরিবারের সঙ্গে থাকার আমন্ত্রণ পান। সেসময় প্রিন্সেস এলিজাবেথের ড্রেসিং টেবিলে শোভা পেত প্রিন্স ফিলিপের ছবি।

• ১৯৪৩ সালে প্রিন্স ফিলিপ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রিন্সেস এলিজাবেথকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু তাদের বিয়েতে সভাষদদের কেউ কেউ আপত্তি তুলেছিলেন। প্রিন্স ফিলিপকে অভদ্র বলেও বিবরণ দেন।

• প্রিন্স ফিলিপ এবং প্রিন্সেস এলিজাবেথের বিয়ে হয় ২০ নভেম্বর ১৯৪৭ সালে। তাদের বিয়ের পর অভিনন্দন জানিয়ে বাকিংহাম প্রাসাদে এসেছিল দশ হাজারের বেশি টেলিগ্রাম। সারা দুনিয়া থেকে পাঠানো হয় প্রায় আড়াই হাজার উপহার।

ভারত থেকে উপহার হিসেবে পাঠানো হয়েছিল মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর হাতে বোনা সুতা দিয়ে তৈরি এক লেস, যার ওপর লেখা ছিল জয় হিন্দ।

• প্রিন্স ফিলিপ প্রকৃতি এবং বন্য প্রাণী সংরক্ষণে তার কাজের জন্য পরিচিত। কিন্তু ১৯৬১ সালে ভারত সফরে তিনি একটি বাঘ শিকার করে সেটির সঙ্গে ছবিও তোলেন। এ নিয়ে তীব্র বিতর্ক হয়েছিল।

• বাবা হিসেবে প্রিন্স ফিলিপ নাকি ছিলেন কড়া মেজাজের। বাবার ধমক খেয়ে শৈশবে প্রিন্স চার্লসকে প্রকাশ্যে কাঁদতেও দেখা গেছে। পুত্রবধূ প্রিন্সেস ডায়ানা সঙ্গে তার ব্যবহার নিয়েও অনেক রকম কথা চালু ছিল।

ডায়ানার প্রেমিক দোদি আল-ফায়েদের বাবা মোহাম্মদ আল-ফায়েদ অভিযোগ করেছিলেন ডায়ানাকে প্রিন্স ফিলিপের নির্দেশে হত্যা করা হয়।

কিন্তু এই অভিযোগের কোন সত্যতাই পাওয়া যায়নি তদন্তে। পরবর্তীতে রাজপরিবারের তরফে প্রকাশ করা প্রিন্সেস ডায়ানার কিছু চিঠিতে দুজনের চমৎকার সম্পর্কেরই প্রমাণ পাওয়া যায়। এসব চিঠিতে প্রিন্সেস ডায়ানা প্রিন্স ফিলিপকে ডিয়ার পা বলে সম্বোধন করেন।