মায়ের স্বপ্নপূরণে লড়ছেন মীম, ভর্তি হতে চান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে


Shakib Aslam | Published: 2024-05-03 22:54:20 BdST | Updated: 2024-05-29 07:20:55 BdST

নানা প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করে বাবা মায়ের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্য ভর্তি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে জন্মগত শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী মোছা. মাহফুজা আক্তার মিম। পড়াশোনার প্রতি দৃঢ় মনোবল তৈরির পিছনের কারিগর হলেন মিমের অভিভাবক তার মা সাহেরা বেগম। মায়ের প্রবল ইচ্ছা মেয়ে ব্যাংকার হবেন। মায়ের কোলে করে এ পর্যন্ত শিক্ষাজীবনের সকল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ভালো ফলাফল অর্জন করেছে উদম্য মীম।

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শুক্রবার ০৩ মে গুচ্ছের 'খ' (মানবিক) ইউনিটের পরীক্ষা দিতে এসে সন্তান মিম ও তার মা সাহেরা বেগমের সংগ্রামের কথা জানা যায়।

মাহফুজা আক্তার মিম রাজবাড়ির বাহাদুরপুর পন্ডিত কাজী আবুল হোসেন কলেজ থেকে ২০২৩ সালে মানবিক বিভাগে এইচ এস সি পাশ করেন। তার বাড়ি রাজবাড়ি জেলার অধীনস্থ পাংশা থানার বাহাদুরপুর ইউনিয়নে। তার বাবার নাম মনজু হোসাইন।

মা সাহেরা বেগম বলেন, আমার মেয়ে বড় এবং ছেলে ছোট। মেয়েকে নিয়ে সবসময় চিন্তার শেষ নাই। ওর জন্মের পর থেকে আমার জীবনে কান্না শুরু হয়েছে। যখন দেখতাম ওর থেকে ছোট বাচ্চারা হাঁটাচলা করে, বসে কিন্তু ও পারে না। আমি অনেক কান্নাকাটি করেছি। কিন্তু এখন ওকে পড়ালেখা শিখিয়ে সেই কান্নাটা একটু কমেছে।

তিনি আরও বলেন, মানুষের অনেক কটু কথা শুনেছি। সংসারের দিক থেকে অনেক কথা শুনতে হয়েছে, সেখান থেকে আমি ওকে পার করে নিয়ে এসেছি। সবচেয়ে বড় কথা ওর বাবা আমার পাশে ছিল। ওর বাবা যদি পাশে না থাকতো তাহলে ওকে এ পর্যন্ত কোনোদিনও আনতে পারতাম না। তিনি কোনোদিনও আমাকেও দোষারোপ করেন নি, কিংবা মেয়েকেও অবহেলা করেনি। আমার থেকে বেশী ভালোবাসে উনি।

মাহফুজা মীম তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ তুলে ধরে বলেন, জন্মগতভাবে আমি শারীরিক অসুস্থ, লেখাপড়ায় পুরোটা আম্মু পাশে ছিল। আমার এ পর্যন্ত শিক্ষাজীবন আম্মুর কোলে বসেই, ছোটবেলায় আমি যখন স্কুলে ভর্তি হতে যাই সাধারণ বাচ্চাদের মতো আমাকে ভর্তি নিতে চায়নি। স্কুল থেকে বলা হয়েছিলো আমি হয়তো পড়তে পারবেনা অন্য বাচ্চাদের সমস্যা হবে। আম্মুর অনুরোধে শিক্ষকরা আমাকে ভর্তি নেয়। ভর্তি নিলেও আমার রোল নির্ধারণ হয় সবার পরে।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে বার্ষিক পরীক্ষার পর যখন আমি ক্লাসে প্রথম স্থান অধিকার করি তখন শিক্ষকরা আমাকে নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এরপর থেকে নিজের চেষ্টায় ভালো ফলাফল ধরে রেখেছি। আজ জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা দিয়েছি। প্রশ্ন তুলনামূলক সহজ ছিল তবে হ্যান্ডরাইটিং স্লো হওয়ায় সব জায়গায় পিছিয়ে পড়ি। সময় যদি আমাকে একটু বেশী দেয়া হতো তাহলে হয়তো আরও ভালো করতাম।

অন্য কোথাও পরীক্ষা দিয়েছেন কি না জানতে চাইলে মীম বলেন, না আমি এখানেই শুধু পরীক্ষা দিয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ পরীক্ষা ভালো হয়েছে, কোন সমস্যা হয়নি। অন্য কোথাও পরিক্ষা দিলে সেখানে থাকা তো আমার পক্ষে সম্ভব না। তাই দেইনি। এখানে যদি হয় তাহলে কাছেকাছি অবস্থানের জন্য এখানে পড়তে পারবো।